রিজিকের সর্বোচ্চ স্তর

Printed Edition

ডা: মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মহান আল্লাহ মানুষের জীবন ধারণের জন্য যে উপকরণ দেন সেটিকেই রিজিক বলে। সে রিজিক অন্বেষণের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে মেধা ও বিবেকশক্তি দিয়েছেন। পৃথিবীর লাখো কোটি প্রাণীর রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহই করেন। আর দিনের শুরু থেকে আমরা সবাই জীবিকার জন্য কমবেশি দৌড়াই। জীবনের জন্য আমাদের রিজিক অথচ রিজিক মানেই শুধু ধন-সম্পদ অর্থবিত্ত বৈভব যে নয় তা আমরা মানতে নারাজ। আমরা রিজিক বলতে বুঝি ধন-সম্পদ আর অর্থ ও টাকাকড়ি। অথচ রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে টাকা-পয়সা অর্থ ও সম্পদ।

আমাদের জানতে হবে রিজিকের স্তর কয়টি ও কী কী?

রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে- টাকা, পয়সা, অর্থ ও সম্পদ। রিজিকের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে-শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। রিজিকের সর্বোত্তম স্তর হচ্ছে- পুণ্যবান স্ত্রী এবং পরিশুদ্ধ নেক সন্তান এবং রিজিকের পরিপূর্ণ স্তর হচ্ছে- মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। রিজিক খুব গভীর একটি বিষয়, যদি আমরা তা বুঝতে পারি।

আমি পুরো জীবনে কত টাকা আয় করব সেটি লিখিত, কে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেটি লিখিত, কবে কোথায় মারা যাব সেটিও লিখিত এবং কতটা খাবার ও পানীয় গ্রহণ করব তাও লিখিত বা নির্দিষ্ট।

আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে- আমি কতগুলো দানা বা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে তারপর মারা যাব সেটি লিখিত। একটি দানাও কম না এবং একটিও বেশি না। ধরুন এটি লিখিত যে, আমি সারাজীবনে এক কোটি টাকা আয় করব, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ তায়ালা নিয়েছেন। কিন্তু, আমি হালাল উপায়ে আয় করব না হারাম উপায়ে আয় করব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ তায়ালার কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে ওই এক কোটি টাকা আয় করেই আমি মারা যাব। আর হারাম উপায়ে হলেও ওই এক কোটি। আমি যেই ফলটি আজকে ঢাকায় বসে খাচ্ছি, সেটি হয়তো ইতালি কিংবা থাইল্যান্ড থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল ধরেছে তখনই নির্ধারিত হয়েছে, সেটি আমার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে কত পাখি ওই ফলের উপর বসেছে, কত মানুষ এই ফলটি পাড়তে গেছে, দোকানে অনেকে এই ফলটি নেড়েচেড়ে রেখে গেছে, পছন্দ হয়নি বা কিনেনি। এসব ঘটনার কারণ একটিই- ফলটি আমার রিজিকে লিখিত। যতক্ষণ না আমি কিনতে যাচ্ছি, ততক্ষণ সেটি ওখানেই থাকবে। এর মধ্যে আমি মারা যেতে পারতাম, অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম কিন্তু না! রিজিকে যেহেতু লিখিত আমি এই ফলটি না খেয়ে মারা যাব না। রিজিক জিনিসটি এতটাই শক্তিশালী! কিংবা যেই আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধব আমার বাসায় আসছে, সে এলে আমার খাবার খাচ্ছে না। এটি তারই রিজিক, শুধু আল্লাহ তায়ালা আমার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

হতে পারে এর মধ্যে আমাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে- আলহামদুলিল্লাহ! কেউ কারোটা খাচ্ছে না, যে যার রিজিকের ভাগই খাচ্ছেন। আমরা হালাল না হারাম উপায়ে খাচ্ছি, সেটি নির্ভর করছে আমি আল্লাহ তায়ালার উপর কতটুকু তাওয়াক্কুল করি, কতটুকু ভরসা করে আছি। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সব কিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে।’ (সূরা হুদ, আয়াত-৬) আল্লাহ তায়ালা অন্য সুরায় বলেন- ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। আর তাকে (এমন উৎস থেকে) রিজিক দেবেন, যা সে ধারণাও করতে পারবে না।’ (সূরা তালাক, আয়াত : ২-৩)

লেখক : প্রবন্ধকার ও গবেষক