ময়মনসিংহ অফিস
ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে আসা ঢলের তোড়ে নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সাথে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর বোরো ধানসহ ফসলি জমি, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বুধবার সকাল থেকে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজীরভিটা ইউনিয়ন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এমনকি পৌর শহরের বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধের ভাঙা অংশ ও উপচে পড়া পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে দুর্ভোগ শুরু হয়। বুধবার সকালে অনেক পরিবার ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাদের উঠান ও ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তড়িঘড়ি করে তারা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির প্রবাহ তীব্র হওয়ায় অনেক পরিবার শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
এ দিকে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা থাকলেও হঠাৎ এই দুর্যোগে পাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত, পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আ: রশিদ ও রেজাউল আলম জানান, কয়েক ঘণ্টার টানা ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দু’টি পয়েন্ট দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে এবং দু’টি কাঁচা সড়ক ভেঙে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং ভবিষ্যতে জানমাল রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



