ভালো ফলন ও দামে হাসি ফুটেছে শরীয়তপুরের পাটচাষিদের মুখে

Printed Edition

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় শরীয়তপুরের পাটচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা ও জাগ দেয়ার কাজ। তবে শ্রমিক সঙ্কট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও পাট ও পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

এ বছর মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। আবার পাট কাটার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সহজেই খাল-বিল ও জলাশয়ে পাট জাগ দিতে পারছেন কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট চার হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পাটকাঠির দামও সন্তোষজনক হওয়ায় অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে জাজিরা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ছয় হাজার ২৬২ হেক্টর, নড়িয়ায় তিন হাজার ৯৭৫ হেক্টর, ভেদরগঞ্জে তিন হাজার ৭১০ হেক্টর, ডামুড্যায় এক হাজার ৭৯০ হেক্টর এবং গোসাইরহাটে এক হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

সম্প্রতি জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলার প্রায় ৩৫ শতাংশ পাট কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকরা ক্ষেত থেকে কাটা পাট খাল বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন। জাগ দেয়া পাট রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনায় উঠিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে সড়কের পাশে বাঁশের আড়ে কোথাও কোথাও সেতুর ওপর শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, শরীয়তপুরের কৃষি জমি পাট আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই পাটের আবাদ ও ফলন বাড়াতে কৃষি বিভাগ প্রণোদনার মাধ্যমে জেলার চার হাজার কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদেরকে সার্বিক সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পাট আবাদ মৌসুমে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।