- ১০ কেজির জায়গায় কেউ পেয়েছেন ৮ কেজি, কেউ ৯ কেজি
- স্লিপ বিতরণেও বৈষম্য
জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলে হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত অসচ্ছলদের বঞ্চিত করে সচ্ছলদের স্লিপ দেয়া, ধর্মীয় অনুপাত তোয়াক্কা না করে কার্ড বিতরণে চরম বৈষম্য করা এবং ওজনে কম দিয়ে চাল আত্মসাতের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ােভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের শিবের হাটে দেখা যায়, হাটের একটি দোকানে ডিজিটাল স্কেলে চাল মেপে দেখছেন কয়েকজন সুবিধাভোগী। সেখানে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার বাসিন্দা মনিবালা, শান্তি রানী ও রমেশ্বরের চাল মেপে দেখা যায়, ১০ কেজির জায়গায় কেউ পেয়েছেন ৮ কেজি, কেউ ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম, আবার কেউ ৯ কেজি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাল চুরি করতেই চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ওজনে কম দিচ্ছেন।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন রায় স্লিপ বিতরণে তীব্র বৈষম্য করেছেন। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ মুসলিম এবং এক হাজার ৬০০ হিন্দু পরিবার বাস করে। আসন্ন ঈদুল আজহা মুসলমানদের উৎসব হওয়া সত্ত্বেও মেম্বার রেশিও না মেনে অধিকাংশ হিন্দু পরিবারকে স্লিপ দিয়েছেন এবং মুসলিমদের বঞ্চিত করেছেন।
কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ফকির পাড়ার লুৎফর রহমান জানান, সহায়তার জন্য মেম্বারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমার কিছুই করার নেই। লুৎফর ােভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্যোগে পড়ার পরও তাদের কপালে কোনো সরকারি অনুদান বা ভিজিএফের স্লিপ জোটেনি। বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও সেখানে কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। কোনো প্রকার ডিজিটাল স্কেল ছাড়াই একটি বড় বালতি দিয়ে অনুমান করে বস্তা থেকে খোলা চাল তুলে দেয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য স্বপন রায় বৈষম্যের কথা অস্বীকার করে বলেন, ঝড়ে ঘর তিগ্রস্ত হওয়া লুৎফরের জন্য পরে একটি স্লিপ পাঠানো হয়েছে। চাল কম দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সাবেদ আলী এবং পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, পরিষদ চত্বরের বাইরে মেপে কম হলে সেই দায় আমাদের নয়। ১০ কেজির পরিমাপের বালতি দিয়ে চাল দেয়ায় সামান্য কম-বেশি হতে পারে। তবে কেউ কম পেলে পরিষদ থেকে তা পূরণ করা হবে। ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা তথ্য ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা আফিজার রহমানও বালতি দিয়ে চাল দেয়াকে সঠিক বলে দাবি করেন।
সৈয়দপুর ইউএনও ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বালতি দিয়ে চাল দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। সঠিকভাবে মেপে ১০ কেজি করেই চাল দিতে হবে। বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়মের খবর পেয়ে তাৎণিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদে ছুটে আসেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদ। পরে তার উপস্থিতে ডিজিটাল স্কেলে সঠিক ওজনে মেপে দুস্থদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।



