প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি : সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো
Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মে দিবসের সমাবেশে বক্তৃতা করেন  : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মে দিবসের সমাবেশে বক্তৃতা করেন : পিআইডি

  • ঢাকা-সিলেট রেল ডাবল লাইনে উন্নীত করাসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা ঘোষণা
  • বন্যানিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
  • জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত বাসিয়া খাল পুনঃ খনন উদ্বোধন
  • নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন

‘দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, জনগণের কাছে। এই জন্য আমরা সে সব কাজ করতে চাই যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে। সে জন্য কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের কাজ আমরা শুরু করেছি। আমরা চেষ্টা করবো, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে মায়েদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে।’

গতকাল শনিবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জনসভার মঞ্চে যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তখন দর্শক সারি থেকে সেøাগান আসে ‘দুলাভাই, দুলাভাই, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’।

এ সময় বক্তব্যের মাঝখানেই হেসে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। হাতে ইশারা করে সেøাগান বন্ধ করতে বললেও কেউ দুলাভাই সেøাগান বন্ধ করেন না। তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেসে হেসে বলেন, ‘দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে তো দুলাভাই চলে যাবে। যাই আমি। কথা বলবো না যাবো? আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে কথা শুনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমানের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়। তাই সিলেটে আসলেই তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষ অন্যরকম উচ্ছ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও তিনি যখন সিলেটে আসেন তখন ‘দুলাভাই, দুলাভাই, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’ সেøাগান দেন মানুষজন। প্রধানমন্ত্রীকেও এই দুলাভাই সম্বোধন উপভোগ করতে দেখা গেছে। চলে যাবার কথা শুনে সেøাগান থামালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখ ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছেন, যে সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে।

এখন আমাদের কাজ হচ্ছে কথা কম কাজ বেশি। এখন দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমাদের প্রধান কাজ এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা ও মানুষের সমস্যার সমাধান করা। আপনারা যদি আমার সাথে থাকেন, পাশে থাকেন, তা হলে আমরা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

অন্য উন্নত দেশের পাশে বাংলাদেশকে আমরা দাঁড় করাবো। কথা একটাই- কাজ কাজ আর কাজ। সে জন্যই আমরা বলি ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে সিলেটকে ঘিরে সরকার একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমি যখন সিলেটে এসেছিলাম তখন বলেছিলাম, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে ৯ থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ সিলেট থেকে সড়ক পথে ঢাকা যেতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যা ছিল। এ কারণে কাজ আটকে ছিল। এই সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারব। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।

কেবল সড়ক পথ নয়, রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যত বড় করা হবে তত গাড়ি নামবে এবং ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। এতে ফসলি জমিও নষ্ট হয়। তাই আমাদের রেলের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেটে বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা হবে। এ ছাড়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্য কর্মীদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তারা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন। কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয়, এসব বিষয়ে মানুষকে অবগত করবেন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রয়োজনে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে হলেও এগুলো সচল করা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। আমরা বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করারও চেষ্টা করছি।

সিলেটের আইটি পার্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে কিন্তু সেটি সচল নেই। আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি, যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়। এ ছাড়া দেশের ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আপডেট করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

সিলেটের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখছিলাম বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি। এ জন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছি। এতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যাবে এবং জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে।

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সুরমা তীরের মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটু আগে যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম, এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে প্লাস্টিকের স্তর জমে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলগুলোতে শিশুদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

সিলেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি এই প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এ সময় তার স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী এই প্রকল্প বিষয়ে জানান, সিলেট নগরকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীকেন্দ্রিক এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিসিক। নদীর দুই তীর জুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীর তীর সৌন্দর্য বর্ধন, সøুইস গেট স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগর নতুন করে পরিচিতি লাভ করবে।

এ ছাড়া নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ছড়া ও খালে সøুইস গেট নির্মাণ করা হবে। বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর পানি বেড়ে গেলে সøুইস গেটগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে নদীর পানি নগরে প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি নদীর দুই পাড় উঁচু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

জিয়ার মতো আনন্দ উচ্ছ্বাসে বাসিয়া খাল পুনঃ খনন উদ্বোধন

সিলেট সদর উপজেলায় ৪৯ বছর আগে ১৯৭৭ সালে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা বাসিয়া খাল( বাসিয়া নদী) পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝে বেলা ১টার দিকে বাসিয়া খাল খননের সময় বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের খননের সময় জিয়ার সাথে খাল খনন করেছেন এমন তিনজন প্রবীণ ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। তারা তারেক রহমানের কাছে জিয়াউর রহমানের সাথে খাল খননের স্মৃতি রোমন্থন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবদুল মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ নেতৃবৃন্দ।

সিলেটের চার উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত বাসিয়া নদী সুরমা থেকে উৎপত্তি হয়ে মিশেছে কুশিয়ারা নদীতে। উৎসমুখ সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাশুকগঞ্জ বাজারে। ১৯৭৭ সালে এখানে প্রথম খনন কাজ উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সেই খননের পর কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। সেচ সুবিধার কারণে বাসিয়া পারে চাষবাস ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হয়। নদীর তীরের অনাবাদি জমিসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়ে।

সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলার বরাক, চাউলধনী, ছালীয়া, মউডুবী ও দয়ালং হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর কৃষি জমির সেচ সঙ্কট প্রাকৃতিকভাবেই দূর হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলে খননের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। ফলে চাষাবাদে সঙ্কট দেখা দেয়। নদীটিও দখল-দূষণে মৃত খালে রূপ নেয়।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর প্রায় ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প-বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, মাশুকগঞ্জ বাজার থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খনন কাজ চলবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান যখন সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করে তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।

তুমুল বৃষ্টির মাঝে ছাতা মাথায় নিয়ে একের পর একটা কর্মসূচি চালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি হজরত শাহজালাল রহ:-এর মাজার জিয়ারত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।

এর পর তুমুল বৃষ্টি বাদলের মাঝে সুরমা নদীর তীরে সিটি করপোরেশনের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পরে নগর ভবন চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সেখান থেকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল পুনঃ খনন উদ্বোধন করে জনসভায় ভাষণ দেন।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন কুড়ি বছর পর মাঠে ফিরলো

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদফতর, তত্ত্বাবধায়নে আছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এ আয়োজনের আওতায় ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, এটি একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

সন্ধ্যা ৭ টায় বিএনপির দলীয় সভায় বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাত ৮ টার দিকে প্রধাম মন্ত্রী ওসমানী বিমানবন্দর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন।

ভিভিআইপির আগমনে নগরের কোনো সড়ক বা পথঘাট

বন্ধ করার পুরনো রেওয়াজ ছিল না সিলেটে।

এই বিষয়টা মানুষজনের মাঝে আলোচনার জন্ম দেয়।

সরকারপ্রধান ও বিএনপি এতে প্রশংসিত হন।