আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সঙ্কট নেই। স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের প্রস্তুত করা ২৩ হাজারের বেশি গরু-ছাগল রয়েছে, যা উপজেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ছয় হাজার পশু বেশি। তবু সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢোকার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজারে ৭০টির বেশি খামার রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ৯টি স্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, প্রতিবছর ঈদের আগে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করায় দেশী পশুর দাম কমে যায়। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এবার খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচ আরো বেড়ে গেছে।
তরুণ খামারি আফজাল হোসেন বলেন, হাট শুরুর আগে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢুকলে আমাদের বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করতে হয়। ক্ষুদ্র খামারি নুর মোহাম্মদ বলেন, গত বছর লোকসানের কারণে এবার তিনি সীমিত পরিসরে গরু পালন করেছেন।
এ দিকে গত বুধবার গভীর রাতে উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গরু প্রবেশের সময় চোরাকারবারিদের সাথে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন বিজিবি সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে আটটি গরু জব্দ করা হয়। পরে সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়েছে।
গত শনিবার সীমান্তঘেঁষা বোগলাবাজার ও বাংলাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির উপযোগী গরু নিয়ে জমজমাট বাজার। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এসব বাজারে দেশী গরুর পাশাপাশি চোরাইপথে ভারতীয় গরুও আসে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে কাজ চলছে। পশুর হাটগুলোতে নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
খামারিদের প্রত্যাশা, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ করা গেলে দেশী পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং তারা লোকসানের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাবেন।



