নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের পর ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল জাতীয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকার ও সিজেপির মধ্যে সমঝোতা হয়। রয়টার্স।
গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে সরকার ও সিজেপি প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের সাথে আলোচনায় যে সমঝোতা হয়েছে, তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। সেই আস্থার ভিত্তিতেই আমরা অবিলম্বে আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।’
সিজেপির দাবি অনুযায়ী, সরকার তাদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- নিট-সংক্রান্ত আত্মহত্যার শিকার শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ; আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা; আন্দোলনে অংশ নেয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কোনো ব্যবস্থা না নেয়া; নতুন করে কোনো ফৌজদারি মামলা না করা; পাঁচ দফা সংস্কার প্রস্তাব বিবেচনা করা; পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
সিজেপির আরেক মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবিই গ্রহণ করেছে। এখন সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানান, শনিবারের বৈঠকটি ছিল সরকার ও সিজেপির মধ্যে তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সিজেপি লিখিতভাবে চারটি বিষয় তুলে ধরে, যার মধ্যে আন্দোলন চলাকালে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়া এবং পাঁচ দফা দাবিপত্র বিবেচনার বিষয়ও আলোচনায় আসে। নাড্ডার ভাষ্য, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আন্দোলনের জেরে নতুন কোনো এফআইআর দায়ের করা হবে না এবং প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপও নেয়া হবে না। দিল্লি পুলিশ বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে আগে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর কপিও সিজেপিকে দেয়া হবে।’
সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলনের সময় কিছু ‘অসামাজিক উপাদান’ সিজেপির মধ্যে অনুপ্রবেশ করে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। দলটি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় এবং জানায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নীতি থেকে তারা কখনো সরে আসেনি।
চলতি বছরের নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ভারতজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক রাস্তায় নেমে আসেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করলে বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলে। ক্রমবর্ধমান জনচাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে নতুন করে আলোচনায় বসে এবং সমঝোতার পথ খুঁজে বের করে। যদিও আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও বিশ্লেষকদের মতে প্রকৃত পরীক্ষা এখন শুরু। কারণ সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে- বিশেষ করে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার বিষয়গুলো- সেগুলো বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এই সমঝোতার স্থায়িত্ব।
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে সরকার কী ধরনের সংস্কার আনে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



