বিশ্বজুড়ে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

Printed Edition

রয়টার্স

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বৈশ্বিক জনমতে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজের। আন্তর্জাতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, বর্তমানে দেশটির অবস্থান রাশিয়ার চেয়েও নিচে নেমে গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত গণতন্ত্রবিষয়ক বার্ষিক এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিগুলো ন্যাটো জোট এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি করেছে। ১২ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘কোপেনহেগেন ডেমোক্র্যাসি সামিট’-এর প্রাক্কালে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হলো। মূলত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সংযোগই ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত।

ডেনমার্কভিত্তিক ‘অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্র্যাসিস ফাউন্ডেশন’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘ডেমোক্র্যাসি পারসেপশন ইনডেক্স’ জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোন দেশ, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়া ও ইসরাইলের পরেই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ন্যাটো মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির এই দ্রুত পতন দুঃখজনক হলেও বিস্ময়কর নয়।’ তিনি জানান, গত ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক শুল্ক আরোপের পাশাপাশি ন্যাটোর মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের হুমকিও দিয়েছে।

ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্কনীতি, ডেনমার্কের অংশ দখলের হুমকি, ইউক্রেনের সহায়তা কমিয়ে দেয়া এবং ইরানকেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ইউরোপ ও আমেরিকার সম্পর্কের ফাটলকে আরো স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলো নৌবাহিনী পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এর জেরে গত এপ্রিলে তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানান, যা এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক ইমেজ যেখানে ছিল ২২ শতাংশ, বর্তমানে তা ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সূচকে রাশিয়ার অবস্থান ১১ শতাংশ এবং চীনের ৭ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নিরা ডাটা’ গত ১৯ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। এর মধ্যে ৪৫টি দেশের ৪৬ হাজার ৬০০ জনের মতামতের ভিত্তিতে দেশগুলোর ভাবমূর্তি মূল্যায়ন করা হয়েছে।