বাজারদর অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি ভাড়া পুনর্নির্ধারণ হবে : ধর্মমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সারা দেশে ৬ লাখ ১৪ হাজার একরের মতো ওয়াকফ সম্পত্তি বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে নামমাত্র ভাড়া আদায় করা হচ্ছে শিগগিরই। বাজার দর অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া পুনর্নির্ধারণ হবে।

গতকাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাতে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ওয়াকফে আওলাদ আছে দুই লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ আছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর জমি। সম্পদ ওয়াকফের টোটাল সম্পত্তি হলো ছয় লাখ ১৪ হাজার একরের মতো। আসলে এত বড় বিশাল স্টেটের আমাদের এই সম্পত্তিগুলোর অধিকাংশই প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অদতার কারণে এখন বেহাল অবস্থায় আছে।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর যেভাবে তারা চালিয়েছে, তাদের কারণে আজকের এই ওয়াকফের অবস্থা খুব শোচনীয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ওয়াকিফরা (দানকারী) যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে গেছেন উনাদের উদ্দেশ্যটা যেন সুষ্ঠু সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। যাতে এখানে চুরি, দুর্নীতি বা কোনো অন্যায় থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্দেশ্য পূরণে যা যা করার আমরা করব।

ওয়াকফে আওলাদ হলো আপনার একটা সম্পত্তি আছে, আপনি এটাকে ওয়াকফ করে ফেললেন। তার মানে এটা কেউ বিক্রি করতে পারবে না, এই সম্পত্তিটা এভাবে থাকবে; কিন্তু এটার ইনকামটা বংশধররা পাবে। আর ওয়াকফে লিল্লাহতে শর্ত থাকে যে ইনকামটা পুরোপুরি আল্লাহর রাস্তায় বা জনকল্যাণে ব্যয় হবে। আবার অনেক সময় শর্ত থাকে যে, নির্দিষ্ট শতাংশ আওলাদ পাবে এবং বাকিটা লিল্লাহর জন্য যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।

শাহ মোফাজ্জল হোসাইন আরো বলেন, গাউছিয়া মার্কেট একটা ওয়াকফ স্টেট। এটায় দোকানের সংখ্যা হলো ৫৮৮টি এবং একেকটা দোকানের আয়তন ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুট। সেখানে মাসিক ভাড়া মাত্র ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ভাড়া ২ হাজার ২১৮ টাকা পর্যন্ত, যা আশেপাশের দোকানের তুলনায় কিছুই না। চকবাজারের মসজিদের একটা দোকান আগে ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া ছিল, পরে কমিটি পরিবর্তনের পর সেটা ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরে এ রকম প্রচুর ওয়াকফ সম্পত্তি আছে যেগুলো লুটপাট করে খাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হলো লুটপাট করে খাওয়া যাবে না। মালিক যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে গেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে, চুরি বন্ধ করতে হবে এবং বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ওয়াকফ প্রশাসক এরই মধ্যে মিটিং করেছেন, যাতে ভাড়া বর্তমান বাজার অনুপাতে করা যায়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যদি সেটা করতে পারি ইনশা আল্লাহ আপনারা তিন মাস পর ভালো কিছু শুনতে পাবেন। তিনি আরো বলেন, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ভাঙার জন্য প্রয়োজনে নতুন আইন করা হবে। এ ছাড়া বেদখল হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সৌদি হজ বিধিমালা মেনে চলার অনুরোধ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও হজযাত্রীদের উন্নত নিরাপত্তা বিধানের ল্েয সৌদি সরকার কঠিন শাস্তিসহ হজ বিধিমালা জারি করেছে। অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের বিষয়ে সতর্ক করেছে সৌদি কর্তৃপ। সৌদির এ হজ বিধিমালা মেনে চলার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের অনুরোধ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সৌদিতে বসবাসকারী ও ভিজিটরদের জন্য দাফতরিক অনুমতিবিহীন হজের উদ্যোগের বিষয়ে কঠিন শাস্তির বিধান যুক্ত করেছে সৌদি সরকার। আসন্ন ১৪৪৭ হিজরি সালের হজকে সামনে রেখে সৌদি সরকার এ উদ্যোগে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আভাস মিলেছে। এ বিধান ভঙ্গকারী বিদেশী বাসিন্দাদেরকে দেশত্যাগ এবং ১০ বছর পর্যন্ত পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈধ অনুমতি ছাড়া হজ পালনের উদ্যোগে আটক ব্যক্তিদেরকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

অবৈধ হজযাত্রী ছাড়াও যেসব ব্যক্তি অবৈধ হজযাত্রী পরিবহন, আবাসন কিংবা অন্য কোনো সহায়তা দিবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সৌদি সরকার। এরূপ েেত্র এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। অপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় এ শাস্তির পরিমাণ বাড়বে। এমনকি এ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার কথা বলেছে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত বিধির অধীনে দাফতরিকভাবে হজের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কেবল মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র ঘোষিত স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে। এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জিলকদ মাসের এক তারিখ হতে ১৪ জিলহজ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে হজের অনুমতি ছাড়া ভিজিট ভিসাধারী ব্যক্তিরা মক্কায় প্রবেশ কিংবা অবস্থান করতে পারবে না।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দেশের নাগরিক, বিদেশী বাসিন্দা ও সব ভিসাধারীকে এই বিধান মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। জনসাধারণকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার েেত্র ৯১১ এবং অন্যান্য স্থানের েেত্র ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইন অমান্যকারীদের বিষয়ে তথ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছে এ মন্ত্রণালয়।