সৈয়দপুরে কালবৈশাখী, শতাধিক গাছ উপড়ে ব্যাপক ক্ষতি

Printed Edition
সৈয়দপুরে কালবৈশাখীতে গাছ উপড়ে সড়কে পড়ে আছে : নয়া দিগন্ত
সৈয়দপুরে কালবৈশাখীতে গাছ উপড়ে সড়কে পড়ে আছে : নয়া দিগন্ত

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বড় বড় শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। গাছের সাথে পিষ্ট হয়েছে ধান ও ভুট্টার ক্ষেত, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুতের লাইন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে প্রায় আধা ঘণ্টার দমকা হাওয়া, ঝড় ও ঝড়োবৃষ্টিতে এই বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর এলাকায়। চৌমুহনী বাজার থেকে রংপুরের বদরগঞ্জগামী সড়কের দুই পাশের অন্তত ৪০টি বড় জাম, মেহগনি, জারুল ও কাঁঠালগাছ উপড়ে পড়ে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পাশের প্রায় দুই একর জমির পাকা ধান ও ভুট্টাক্ষেত মাটির সাথে মিশে গেছে। বাড়ির গাছ ভেঙে পড়ায় লুৎফর রহমানের দু’টি ঘর সম্পূর্ণ ধসে গেছে।

লক্ষণপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের ওপর একটি শিরিষগাছ পার্শ্ববর্তী একটি ঘরের ওপর পড়ে ছাদ ভেঙে গেছে। পাশেই ওহেদুল ইসলামের বাড়ির ওপর কদমগাছ পড়ে টিনের চালায় ফাটল ধরে। শিবের হাট এলাকায় গাছ পড়ে বিধবা কহিনুর বেগমের একটি এবং গুড়াতিপাড়ায় মঞ্চিলা খাতুনের একটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বহু বাড়ির ইলেকট্রিক মিটার নষ্ট হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নিতে পারিনি। এখন পর্যন্ত ক্ষতির সঠিক তথ্য জানা নেই। তবে ভাঙা গাছ কেটে পরিষদের কাছে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার চেষ্টা করব।’

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি গাছগুলোর অনেকগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীরা কেটে নিয়ে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি জরিপ ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কালবৈশাখী ঝড়ে সৈয়দপুরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ও ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনেও এ ধরের দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনকে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।