নিজস্ব প্রতিবেদক
বান্দরবানের থানচিতে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন বাঙালি ঠিকাদার মো: আমু হোসেন (৫০)। এ সময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণের জন্য তিন লাখ টাকা আদায় করা হয়। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৩৮) বলিপাড়া জোনের একটি দল দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে অপহৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে নেয়া মুক্তিপণের নগদ তিন লাখ টাকাসহ অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রোকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) কমান্ডার লে. কর্নেল মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেন জানান, আটক মাংলে ম্রোকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মো: আমু হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর ভিকটিমের জীবননাশের আশঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। পরে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দিতে বাধ্য হন। ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।
অপহৃতের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণকারীদের শনাক্ত ও আটক, মুক্তিপণের অর্থ উদ্ধার এবং কোনো ধরনের পার্শ্বক্ষতি ছাড়াই পুরো অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করাসহ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় গভীর রাতে কৌশলগত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিজিবির পেশাদারিত্ব, ধৈর্য, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপহৃত ঠিকাদার মো: আমু হোসেনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একইসাথে অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাংলে ম্রোকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
লে. কর্নেল মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেন আরো জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। থানচি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো অনেকেই আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। পাশাপাশি, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত আছে। সমগ্র এলাকা সব সংস্থার সমন্বিত নজরদারিতে রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বান্দরবানের থানচি একটি পর্যটনবান্ধব এলাকা। এখানে কোনো প্রকার সন্ত্রসীকে প্রশ্রয় দেয়া বা কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। এ ব্যাপারে সর্বসাধারণের আন্তরিক সাহায্য নিয়ে বিজিবি সর্বদা দেশ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।



