আনাদোলু
দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর ইসরাইলি হামলার পর থেকেই মসজিদটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে পুরনো শহর ও মসজিদের প্রবেশপথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাধারণ মুসল্লিদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আশপাশের রাস্তায় নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলেও ইসরাইলি বাহিনী বাধা দেয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনসমাগম এড়াতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে শুধু ওয়াকফ দফতরের সীমিতসংখ্যক কর্মী ছাড়া অন্য কেউ মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না। একই সাথে খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থান কিয়ামা গির্জাও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরনো শহরের আশপাশে নামাজ পড়তে গেলে পুলিশ মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অনেকেই ছোট ছোট মসজিদে নামাজ আদায় করছেন, আবার কেউ কেউ সিলওয়ান শহরের রাস আল-আমুদ এলাকায় রাস্তায় নামাজ পড়েছেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুসালেম দখলের পর এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধরে আল-আকসায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি হলো।
জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোয় রমজানের তারাবি ও ঈদের নামাজও সেখানে আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা। এ দিকে হামাস এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আসন্ন ধর্মীয় উৎসব ঘিরে ইহুদি কট্টরপন্থীদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।


