ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের মুখোমুখি লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে আগমীকাল ভোর ৫টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ শুধু প্রথম রাউন্ডের আরেকটি খেলা নয়- এটি হতে পারে গ্রুপ ‘ই’-এর ভাগ্য নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এই গ্রুপে ফেবারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে জার্মানিকে। ফলে দ্বিতীয় নকআউট স্পটের লড়াইয়ে আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি। শুরুতেই জয় তুলে নেয়া দল পরবর্তী পথচলায় বড় সুবিধা পেতে পারে।
আফ্রিকার অন্যতম সফল দল আইভরি কোস্ট দীর্ঘ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে। শেষবার ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। সেবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গ্রিসের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলযে পরাজয় আজো ‘এলিফ্যান্টস’ সমর্থকদের মনে রয়ে গেছে।
এরপর ২০১৮ ও ২০২২ দুই বিশ্বকাপেই জায়গা হয়নি তাদের। তাই এবারের প্রত্যাবর্তন শুধু আরেকটি অংশগ্রহণ নয়, বরং নতুন করে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
বর্তমান দলটির দায়িত্বে আছেন ইমার্স ফে। তার অধীনে দলটি নতুন এক পরিচয় পেয়েছে। শারীরিক শক্তি, দ্রুত আক্রমণ এবং উইংভিত্তিক ফুটবলের ওপর জোর দিয়ে এগোচ্ছে আফ্রিকান দলটি।
বিশ্বকাপের আগেও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো ফল পেয়েছে তারা। প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া, স্কটল্যান্ড এবং বিশেষ করে ফ্রান্সকে হারানো আইভরি কোস্ট সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।স তবে বিশ্বকাপে তাদের বড় সীমাবদ্ধতা এখনো একই তারা কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।
তবে প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ। ইকুয়েডর বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে সংগঠিত দলগুলোর একটি। দুই বছর আগে ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকে আর কোনো ম্যাচ হারেনি তারা।
কোচ সেবাস্তিয়ান বেক্কসিসির অধীনে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দলটি। এই ধারাবাহিকতার মূল শক্তি তাদের দুর্দান্ত রক্ষণভাগ। এই সময়ে তারা ১৩টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। বল ছাড়া সংগঠিত থাকা এবং প্রতিপক্ষকে জায়গা না দেয়ার কৌশলে ইকুয়েডর বর্তমানে অন্যতম কঠিন দল হিসেবে পরিচিত।
তবে তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আক্রমণভাগ। দলটি গড়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় এক গোল করছে। ফলে ড্রকে জয়ে রূপ দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে কিছু সংশয় রয়েছে। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া। জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড ম্যাচের আগে পুরোপুরি ফিট না-ও থাকতে পারেন। তার অনুপস্থিতি ইকুয়েডরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। কারণ বর্তমান স্কোয়াডে দ্বি-অঙ্কের আন্তর্জাতিক গোল রয়েছে একমাত্র তারই। এরপর আছেন গঞ্জ্যালো প্লাটা।
অন্য দিকে আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগও কম ভয়ঙ্কর নয়। উইংয়ে রয়েছে গতি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়। আমাদ দিয়াল্লে, সায়মন আদিংরা, নিকোলাস পেপে এবং আলোচনায় থাকা ইয়ান দিয়োমান্ডে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
স্ট্রাইকার পজিশনে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। স্কোয়াডে না থাকা সেবাস্তিয়ান হেলেরের জায়গায় দায়িত্ব নিতে পারেন এলিয়ে ওয়াহি ইভান গুয়েসান্দ।



