চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখের বেশি

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

এ বছর কোরবানির জন্য চট্টগ্রামে আট লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশুর চাহিদা রয়েছে। তবে সরবরাহ পাওয়া যাবে সাত লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। চট্টগ্রামের শতাধিক হাটে এসব পশু বিক্রি হবে। প্রায় ৩৫ হাজার ৫২০টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্যমতে, এই ঘাটতি পূরণ হবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশুর মাধ্যমে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আলমগীর বলেন, চাহিদা বাড়লেও পশুর সঙ্কট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। স্থানীয়ভাবে পশুপালন অনেক বেড়েছে। যে ঘাটতি রয়েছে, তা আশপাশের জেলা এবং উত্তরাঞ্চল থেকে সহজেই পূরণ হয়ে যাবে।

তিনি জানান, নাটোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামের বাজারে আসে। ফলে সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও বাজারে তার প্রভাব খুব একটা পড়বে না।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এসে চাহিদা দাঁড়ায় আট লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টিতে। চলতি বছর চাহিদা কিছুটা কমে আট লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি বলে সূত্র জানায়।

জানা গেছে, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, মিরসরাই, পটিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, রাউজানসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত কয়েক বছরে খামারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন সারা বছর পরিকল্পিতভাবে পশু লালন-পালন করছেন কোরবানির মৌসুম সামনে রেখে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হচ্ছে, তেমনি বাইরের জেলার ওপর নির্ভরশীলতাও কমছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বেশি গরু রয়েছে- মোট ৪৩ হাজার ৯৭৪টি। বাঁশখালীতে ৩৮ হাজার ৩৩২টি এবং মিরসরাইয়ে ৩৮ হাজার ৪১টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া পটিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পশু রয়েছে।

গরুর পাশাপাশি মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সরবরাহও কম নয়। জেলায় মহিষ রয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩৪টি, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্দ্বীপে। ছাগলের সংখ্যা এক লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি এবং ভেড়া রয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টি।

তবে এই ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও রয়েছে কিছু চাপ। খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ওষুধ ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পরিবহন খরচ বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।