সিরিঞ্জে ভরে পাচার হচ্ছে বিরল পিঁপড়া

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

কেনিয়ার পূর্ব আফ্রিকার একটি বিরল প্রজাতির পিঁপড়া ‘জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার’ (মেসর সেফালোটেস) নিয়ে আন্তর্জাতিক কালোবাজার দ্রুত বাড়ছে। আর এর কেন্দ্র হয়ে উঠছে নাইরোবি। এশিয়া ও ইউরোপে বিদেশী পোষা প্রাণী হিসেবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাচারকারীরা এসব পিঁপড়া সিরিঞ্জ, বিশেষ টিউব ও কন্টেইনারে ভরে পাচার করছে। বিষয়টি এখন সংরক্ষণ ও জৈব নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি চীনা নাগরিক ঝ্যাং কেকুনকে এক বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ কেনিয়ান শিলিং জরিমানা করেছে আদালত। মার্চে জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার লাগেজ থেকে ২,২০০টির বেশি জীবিত পিঁপড়া উদ্ধার হয়, যার মধ্যে ১,৯৪৮টি ছিল মেসর সেফালোটেস। এই পিঁপড়াগুলো তিনি কেনিয়ার নাগরিক চার্লস মুয়াঙ্গির কাছ থেকে প্রতিটি ১০০ শিলিং দরে কিনেছিলেন বলে অভিযোগ। মুয়াঙ্গি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

গত এক বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে দুই বেলজিয়ান কিশোর প্রায় ৫,০০০ রানি পিঁপড়া পাচারের দায়ে দণ্ডিত হয়। একইভাবে এক ভিয়েতনামি ও এক কেনিয়ান নাগরিকের কাছ থেকেও প্রায় ৪০০ পিঁপড়া সিরিঞ্জ ও কন্টেইনারে ভরা অবস্থায় ধরা পড়ে। আদালত বলেছে, এ ধরনের অপরাধ বাড়ায় কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগ্রাহকদের কাছে এই পিঁপড়ার চাহিদা খুব বেশি। তারা ‘ফরমিকারিয়াম’ নামের কৃত্রিম বাসায় পিঁপড়ার উপনিবেশ তৈরি করে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বাজারে একটি রানী পিঁপড়ার দাম ২৩৫ পাউন্ড পর্যন্ত ওঠে, যা স্থানীয় দামের প্রায় ৪০ গুণ। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের অনলাইন বাজারে এটি তৃতীয় জনপ্রিয় বিদেশী পিঁপড়া প্রজাতি।

কীটতত্ত্ববিদ ডিনো মার্টিন্স বলেন, উজ্জ্বল লাল-কালো রঙ, বড় আকার (শ্রমিক ১৯ মিমি, রানি ২৫ মিমি) এবং জটিল আচরণের কারণে এগুলো সংগ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয়। তিনি এগুলোকে ‘পিঁপড়ার জগতের বাঘ’ বলে উল্লেখ করেন। এই প্রজাতি তৃণভূমিতে বীজ সংগ্রহ ও ছড়িয়ে দিয়ে ঘাসের বৈচিত্র্য বজায় রাখে, যা গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত সংগ্রহ হলে পরিবেশ, কৃষি ও পর্যটন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। একইসাথে এসব পিঁপড়া অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়লে আক্রমণাত্মক প্রজাতিতে পরিণত হয়ে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।