মেহেদী হাসান ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর পাঁচটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। গত সোমবার ভোররাতে সেতুর পূর্ব পাশের ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর থাকা গার্ডারগুলো ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দ শুনে সকালে নদীর পাড়ে গিয়ে তারা গার্ডার ধসে পড়ার বিষয়টি দেখতে পান। এর আগেও ২০২২ সালে একই পাশে দুটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়েছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুর আশপাশে অবৈধভাবে ড্রেজার ও শেভ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে পিলারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেও বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২৯ কোটি টাকায়। ২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়েছে। বর্তমানে ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি এবং ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম মিয়া বলেন, ‘এই সেতু ছিল এলাকার মানুষের স্বপ্ন। কিন্তু বারবার গার্ডার ধসে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন গার্ডারের সাথে থাকা রড ও ফাইভ খুলে নেয়ার পরই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশ অবৈধ বালু উত্তোলনকে দায়ী করছেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন বলেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ হওয়ায় বারবার গার্ডার ধসের ঘটনা ঘটছে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কী কারণে গার্ডার ভেঙে পড়েছে তা তদন্তে খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



