২৫ বছর পর প্রিমিয়ারে কভেন্ট্রি

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে ২০০০-০১ সালে অবনমন হয়েছিল কভেন্ট্রি সিটির। ২০০১ সালের ৫ মে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে ইংল্যান্ডের ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে গিয়েছিল দলটি। ১১ বছর সেখানে কাটিয়ে আরো অবনমিত হয়ে তৃতীয় স্তর অর্থাৎ লিগ ওয়ানে চলে যায় কভেন্ট্রি। এমনটি ক্লাবের ৫৯ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে প্রথমবার চতুর্থ বিভাগে অবনমন হয়। এবার সে দীর্ঘ ২৫ বছরের অচলাবস্থা ভেঙে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে দলটি। ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে গত পরশু ১-১ ড্র করে চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ দুইয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে কভেন্ট্রি। আর তাতেই তিন ম্যাচ হাতে রেখে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে শীর্ষ পর্যায়ের লিগে সরাসরি প্রমোশন নিশ্চিত হয় কভেন্ট্রির।

চ্যাম্পিয়নশিপে ২৪ দলের লিগে গত পরশু ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে এ ড্র’র ফলে ৪৩ ম্যাচ শেষে ৮৬ পয়েন্ট কভেন্ট্রির। সমান ম্যাচে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিলওয়ালের পয়েন্ট ৭৬। আর তৃতীয় পজিশনে আছে ৪১ ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ইপ্সউইচ টাউন। ফলে ৪৬ রাউন্ডের এই টুর্নামেন্টে প্রথম দু’টি স্থানে একটি নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় প্রিমিয়ারে সরাসরি প্রমোশন পেল কভেন্ট্রি সিটি।

২০২৪ সালের নভেম্বরে সমর্থকদের প্রিয় কোচ মার্ক রবিনসের স্থলাভিষিক্ত হন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। দলের প্রথম গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ল্যাম্পার্ডের শান্ত ও ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগে ফিরে কোচ ল্যাম্পার্ড বলেন, ২৫ বছর পর ক্লাবটির প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসা একটি ‘অনন্য’ অর্জন। তিনি বলেন, ‘এত বছর পর এটা অর্জন করা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। নন-প্যারাশুট পেমেন্ট ক্লাব হিসেবে তিন ম্যাচ বাকি থাকতে সরাসরি প্রমোশন পাওয়া, এ ছেলেরা সত্যিই বিশেষ ও অনন্য কিছু অর্জন করেছে। এটাই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। এ পর্যায়ে এসে এখানে এসে একটি পয়েন্ট নেয়াও সহজ নয়।’

১৯৯২-৯৩ সালে প্রিমিয়ার লিগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কভেন্ট্রি সিটি। কিন্তু ২০০০-০১ মৌসুমের পর ক্লাবটিকে লিগে ফেরালেন কোচ ল্যাম্পার্ড। নিশ্চিতভাবেই এটি তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এখানে এসেছিলাম, এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। এখন এ ক্লাবের সাথে আমরা গভীরভাবে জড়িয়ে গেছি। আমি এ ক্লাবকে ভালোবেসে ফেলেছি।’