মো: আব্দুল আজিজ জয়দেবপুর (গাজীপুর)
গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় খাদ্য ও নিরাপদ আবাসনের অভাবে সম্প্রতি অসংখ্য বানর লোকালয়ে চলে আসছে। বাজার, দোকানপাট, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে বানরের দলকে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। এতে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) হোতাপাড়া বাজার এলাকায় দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বানর একটি টিনের চালের ওপর দীর্ঘ সময় অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে মা বানরের সাথে বাচ্চাও ছিল, যা খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সঙ্কটের ইঙ্গিত বহন করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে লোকালয়ে খুব কমই বানর আসত। কিন্তু এখন প্রায়ই দলবদ্ধভাবে আসে ওরা। এসে বাড়িঘর, দোকান ও ফলের গাছে ঘোরাফেরা করে। খাবারের সন্ধানে তারা মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে এবং অনেক সময় ফলমূল ও খাবার নিয়ে চলে যাচ্ছে। দোকানে ঢুকে ওরা বিভিন্ন খাদ্যপণ্য নিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছে, তেমনি বানরগুলোর নিরাপত্তাও পড়ছে ঝুঁকির মুখে।
পরিবেশবিদদের মতে, বনাঞ্চল ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা ও প্রাকৃতিক ফলদ উদ্ভিদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক খাদ্য ও আবাসস্থল হারাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা লোকালয়ে চলে আসছে। শুধু হোতাপাড়ায়ই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়ও একই কারণে বানর লোকালয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ঢাকার ফুসফুস খ্যাত গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, বনবিভাগের বাধা ও পরিবেশ অধিদফতরের আপত্তি উপেক্ষা করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন তাদের ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এতে বন ও বন্যপ্রাণী আরো মারাত্মক হুমকিতে পড়বে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও বন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বানর বা অন্য বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা, আঘাত করা বা হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডার পুনরুদ্ধারে বনভূমির ভেতরে বিভিন্ন মৌসুমি ফলদ গাছ রোপন এবং বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একইসাথে স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করতে হবে, যাতে বন্যপ্রাণী রক্ষায় তারাও এগিয়ে আসতে পারেন এবং বন্যপ্রাণীদের ওপর কোনো ধরনের বিরুপ আচরণ না করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, গাজীপুরের বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সঙ্ঘাত আরো বেড়ে যাবে। তাই বন সংরক্ষণ, দেশীয় ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।



