পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে প্রাথমিকের কারিকুলাম

যুক্ত হচ্ছে ভাষা, ব্যবহারিক গণিত, সিটি এডুকেশন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না প্রাথমিকের কারিকুলাম; বরং খেলাধুলা এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনাচরণের বিভিন্ন শিক্ষাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে কারিকুলামে। বিশেষ করে ভাষা, গণিত, সিটি এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে ভিত্তি করেই সাজানো হচ্ছে প্রাথমিক স্তরের এ নতুন কারিকুলাম। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে সম্প্রতি ঢাকার বাইরে বগুড়াতে তিন দিনের একটি আবাসিক কর্মশালার মাধ্যমে ২০২৮ সালের প্রাথমিকের কারিকুলামে কী কী বিষয় যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের উপযোগী এবং বিশ্বমানের এই কারিকুলাম প্রণয়ন করা যায় সে বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ উঠে এসেছে। এখন সেই সুপারিশগুলো নিয়ে কাজ চলছে। তবে ২০২৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না। শুধু ইতিহাসভিত্তিক কোনো অসঙ্গতি থাকলে সেখানে স্বল্পপরিসরে পরিমার্জন করা হবে।

এ দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিকে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হচ্ছে। গতকাল রোববার দুপুরে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) সম্মেলন কক্ষে ‘প্রাথমিক স্তরের বাংলা ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রমের বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং’ বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। ভাষা, গণিত, সিটি এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে সাজানো হচ্ছে এ নতুন পাঠ্যক্রম। ডিজাইন, প্রশিক্ষণ ও পাইলটিং শেষে ২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা এই কারিকুলাম পাবে। নতুন কারিকুলামে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন প্রাথমিক শিক্ষার মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শিখিয়ে বের করতে পারছি। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর মূল্যায়িত করা হবে সব কর্মকর্তাকেও। এতে উন্নত ওয়াশরুম এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ২০২৮ সালে প্রাথমিকের নতুন পাঠ্যক্রম চালু করব। ২০২৭-২৮-এর ভেতরে আমাদের শিক্ষকদের এই নতুন পাঠ্যক্রমে প্রশিক্ষিত করা হবে। দুই বছরের মধ্যে নতুন পাঠ্যক্রম নকশা করা হবে। এক বছরের মধ্যে ডিজাইন পাইলটিং সম্পূর্ণভাবে শেষ করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রাথমিকের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক জায়গায় পিছিয়ে আছি। এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখানোর মতো করে শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করিনি, এ ব্যবস্থা হতে হবে এমন, যেখানে শেখানো যাবে। এই শেখানোর জায়গা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। পাঠ্যবই শিক্ষক কারিকুলামের একটি অংশ। প্রথমত, আমাদের কারিকুলাম নকশা করতে হবে যেখানে আমরা শিক্ষার্থীদের শেখাব। সে জন্য আমাদেরকে প্রথমে এমন কারিকুলাম নকশা করতে হবে, যা আমাদের শিক্ষার্থীদের আসলে শিক্ষা দিতে পারে।