বোমা ভেবে আতঙ্ক, ব্যাগে পাওয়া গেল জর্দার কৌটা

সন্দেহজনক বস্তু দেখলে স্পর্শ না করার অনুরোধ সিটিটিসির

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ গিয়ে তেমন কিছু পায়নি। বস্তার মধ্যে বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক কোনো বস্তু মেলেনি। গেল এক সপ্তাহে মতিঝিলের মেট্রো স্টেশনের নিচে ও আশুলিয়ায় চায়ের দোকানের সামনে শক্তিশালী বোমা পাওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। তবে নগরবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে সেটি স্পর্শ না করারও অনুরোধ জানান তারা।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সিটিটিসি জানায়, মিরপুর ১০ নম্বরে সন্দেহজনক বোমাসদৃশ বস্তুটির মধ্যে পাওয়া যায় জর্দার কৌটা ও পান। আর ফার্মগেট স্টেশনের নিচে থাকা বস্তাটি ছিল খালি।

বোমাসদৃশ্য বস্তা আতঙ্কের খবর পাওয়ার পর থেকে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট এলাকায় মেট্রো চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। তবে ঘটনার পরপরই ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুই মেট্রো স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু থাকার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক কোনো বস্তু মেলেনি।

মিরপুরের ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করলে এর ভেতরে কৌটাসদৃশ একটি ইমেজ দেখা যায়। পরবর্তীতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে নিরাপদে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে ব্যাগটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান ছিল।’ আর ফার্মগেইটের ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি বলেছে, ‘পরিত্যক্ত বস্তা ঘিরে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু নেই।’

সন্দেহজনক বস্তু দেখলে স্পর্শ না করার অনুরোধ সিটিটিসির

গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে সেটি স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত নিকটস্থ থানা, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।

মতিঝিলে পাওয়া আইইডি, আশুলিয়ায় প্রেশার কুকার এবং মিরপুর ও ফার্মগেটে পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তুর আতঙ্ক- এগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।