আনাদোলু
গ্লোবাল সুমুদ ত্রাণের জাহাজের কর্মীদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের সাথে অত্যন্ত অবমাননাকর ও অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার আল আনৌনি। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির যে আচরণ করেছেন, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের পদাধিকারী ব্যক্তির সাথে একেবারেই মানায় না।
ইউরোপের বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানালেও, মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে এই সংক্রান্ত আলোচনা রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলছে এবং যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য সব সদস্য দেশের ঐকমত্য প্রয়োজন।
একটি মানবিক ত্রাণের জাহাজের কর্মীদের সাথে ইসরাইলি বাহিনীর অন্যায্য আচরণের জেরে ইউরোপের ভেতরে তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার চাপ বাড়ছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোর দিয়ে বলেছে যে, ব্লকের ভেতরে মতভেদ থাকায় যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তের জন্য ২৭টি সদস্য দেশেরই একমত হওয়া আবশ্যক। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পোস্ট করা একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাজধানীতে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর ইইউর পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এলো। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেন-গভির বন্দী করে রাখা একদল আন্দোলনকর্মীর মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, যাদের হাত পেছন থেকে শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং তারা গাদাগাদি করে হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন। সেই ভিডিওতে বেন-গভিরকে ইসরাইলের পতাকা ওড়াতে এবং বন্দীদের উদ্দেশে উপহাসমূলক অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়ার পর ওই কর্মীরা গত বৃহস্পতিবার তুরস্কে পৌঁছান। সেখানে তারা আন্তর্জাতিক নৌসীমায় অবৈধভাবে বন্দী থাকার সময় ইসরাইলি হেফাজতে তাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। আনাদোলুর এক প্রশ্নের জবাবে ইইউর কমিশন মুখপাত্র আনোয়ার আল আনৌনি এই ঘটনায় বন্দী হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ওপর চালানো আচরণের তীব্র সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করেন। ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্লোবাল সুমুদ ত্রাণের জাহাজের কর্মীদের সাথে অত্যন্ত অবমাননাকর ও অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ইইউর নাগরিকরাও ছিলেন। ইসরাইলি মন্ত্রী বেন-গভিরের এই আচরণ কোনো গণতান্ত্রিক দেশের কোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে একেবারেই শোভা পায় না। যেকোনো বন্দী ব্যক্তির সাথেই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ংধভব ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা উচিত।
তিনি আরো যোগ করেন, ইইউর পক্ষ থেকে আমরা ইসরাইল সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা এই কর্মীদের সুরক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করে, কারণ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইইউর নাগরিক রয়েছেন। ইসরাইলের সাথে চুক্তি স্থগিত ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে আয়ারল্যান্ড ও ইতালি
এই ঘটনার পর ইউরোপের কয়েকটি দেশের সরকার ইসরাইলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি নতুন করে তুলেছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি আগামী ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ত্রাণের জাহাজে থাকা ইইউ নাগরিকদের ওপর ইসরাইলের আচরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।



