আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের ৪ হাজার কর্মীর চাকরি বহালের দাবি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় থাকা দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের’ আওতায় নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং কর্মরত চার হাজার ৩৮২ জন দক্ষ জনবলের চাকরি বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই আবেদন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে এ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গত ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত চলমান ছিল। প্রকল্পের আওতায় ১১টি সিটি করপোরেশন ও ১৮টি পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৪৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মোট ১৯২টি কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে এসব কেন্দ্র সরাসরি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পরিচালনা করছে। বর্তমানে ১৮টি বেসরকারি সংস্থা এবং তিনটি পৌরসভা ও একটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পটি মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৪৫টি পার্টনারশিপ এলাকায় ১৬ ধরনের বহুমুখী সেবা প্রদান করে। এর মধ্যে প্রসব-পূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য, ইপিআই সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণসহ নির্যাতিত নারীদের সেবা অন্যতম। নীতিমালা অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রে দরিদ্রদের জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা সুলভ মূল্যে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এক কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার প্রসব-পূর্ব সেবা এবং এক লাখ ৯০ হাজার শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করার মতো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে এই সেবা কার্যক্রমটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিবর্তনকালীন অবস্থায় প্রকল্পে কর্মরত চার হাজার ৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জনস্বার্থ বিবেচনা করে এই বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাকরি বহাল রাখা এবং নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কোনো বিঘœ ছাড়াই সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।