ক্রীড়া প্রতিবেদক
নেদারল্যান্ডসদের বিপক্ষে আজ এজবাস্টনে বেলা সাড়ে তিনটায় প্রথম ম্যাচ খেলবেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ডাচ নারী দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ ভেনু ইংল্যান্ডে তাঁবু ফেলেছে টাইগ্রেসরা।
ইংল্যান্ডে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে হেরেছেন জ্যোতিরা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ রানে আর নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে টাইগ্রেসরাই এগিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা, বোলিং আক্রমণের বৈচিত্র্য এবং বড় আসরে খেলার অভ্যাস, সব দিক থেকেই বাংলাদেশের পাল্লা ভারী। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও নেদারল্যান্ডসকে হারানোর সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের।
দলের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন বিভাগ। নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খান ও ফাহিমা খাতুনের মতো বোলাররা যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে পারেন। পাশাপাশি পেস আক্রমণে মারুফা আক্তার বাংলাদেশের অন্যতম ভরসার নাম। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে তার সুইং ও গতিই হতে পারে দলের বড় অস্ত্র।
ব্যাটিং বিভাগে অধিনায়ক জ্যোতি, সোবহানা মোস্তারি, শারমিন আক্তার ও তরুণ অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তারের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। শুরুটা ভালো হলে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট বড় সংগ্রহ গড়ার সামর্থ্য রাখে।
অন্য দিকে নেদারল্যান্ডস প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে। তাদের দলে কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। তবে স্টেরে কালিস ও অধিনায়ক বাস ডি লিডেকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের ক্রিকেট খেলতে পারলে বাংলাদেশের জয় পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ্বকাপ মঞ্চে শুভ সূচনার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে নিগার সুলতানার দল, আর সেই লক্ষ্য পূরণে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা তাদের অভিজ্ঞ স্পিন আক্রমণ ও লড়াকু মানসিকতা।
দলের সাথে থাকা প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপন জানান, প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে মূল বিশ্বকাপে। তার কথায়, ‘স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে কিছুটা পার্থক্য আছে। ইংলিশ কন্ডিশনের উইকেটগুলো ভালো থাকে। প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে এখানে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার ছিল। আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কম্বিনেশন বেছে নেয়া হয়েছে। ডাচদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভালো করা উচিত।’
জ্যোতিরা যে দু’টি দলকে হারাতে চান, তারা হলো নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতকেও হারাতে চান তারা। টি-২০ ক্রিকেটে তাদের বিপক্ষে ভালো করার রেকর্ড থাকায় এই প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২৫ জুন ভারত আর ২৮ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ। বি গ্রুপে খেলবে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ইংল্যন্ডের বিশাল জয়
ক্যারিয়ারের অষ্টম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রাঙালেন ড্যানি ওয়াট-হজ। জবাবে ধারেকাছেও যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। রেকর্ডের ভেলায় ভেসে উইমেন’স টি-২০ বিশ্বকাপে শুভসূচনা করল ন্যাট সিভার-ব্রান্টের দল। দশম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় ৮৭ রানে। এজবাস্টনে ২০ ওভারে ইংল্যান্ড করে এক উইকেটে ২১৯ রান। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় ২০০ ছোঁয়া দলীয় সংগ্রহ এটি। আগের রেকর্ডটিও ছিল ইংল্যান্ডের। ২০২৩ আসরে কেপ টাউনে পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা করেছিল ২১৩ রান। বড় লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কা শেষ বলে অলআউট হয় ১৩২ রানে।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-২০ সেঞ্চুরিতে সব আলো কেড়ে নেন ড্যানি ওয়াট। ১৩ চার ও এক ছক্কায় ৬২ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসে ম্যাচ সেরা হন ৩৫ বছর বয়সী এই ওপেনার। সব দেশ মিলিয়ে বিশ্বকাপে সপ্তম সেঞ্চুরি এটি, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়, ২০২০ আসরে এই স্বাদ পেয়েছিলেন হিদার নাইট।



