নিজস্ব প্রতিবেদক
রোড রোলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণের জন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তার সুইডেন সফর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগ আদেশ প্রত্যাহার করে।
বিভাগের যুগ্মসচিব রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি খুদে বার্তায় সংশ্লিষ্টদের জানান, সফরের অফিস আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন করে কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি আদেশটি ওয়েবসাইট থেকেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া আদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ ইমরান হোছাইন খোকানের ২৫ জুলাই সুইডেন যাত্রা এবং ৩ আগস্ট দেশে ফেরার কথা ছিল।
সফরের ব্যয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বহন করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে সফরের অনুমোদন বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বিদেশ সফরের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
নথিপত্রে দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য পাঁচটি ডাবল ড্রাম রোলার সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবির আহমেদ। এসব রোলার কেনায় মোট ব্যয় ধরা হয় সাত কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
ক্রয়চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রোলারগুলো বিদেশ থেকে পাঠানোর আগে তিনজন কারিগরি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে প্রি-শিপমেন্ট পরিদর্শনের বিধান ছিল। এ ছাড়া সরবরাহের সাত দিনের মধ্যে কর্মস্থলে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং প্রতিটি রোলারের জন্য একজন করে চালককে এক দিনের প্রশিক্ষণ দেয়ার শর্তও রাখা হয়।
এ প্রশিক্ষণের জন্য ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল, যার পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।
নথি অনুযায়ী, রোলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিদেশ সফরের অনুমোদন দেয়। তবে পরে অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময়ের অনুমোদিত তালিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুর রহমানের নামও ছিল।
পরবর্তীতে গত ৬ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংশোধিত আদেশে উপসচিব আবদুর রহমানের পরিবর্তে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সফরের মেয়াদ সাত দিন থেকে বাড়িয়ে ১০ দিন করা হয়।



