আনাদোলু এজেন্সি
ন্যাটো তাদের সামরিক জ্বালানি সরবরাহ কাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন সঙ্ঘাতের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, জ্বালানি পরিবহন ও কৌশলগত ব্যবস্থা আধুনিকায়নের এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ন্যাটোর আগ্রাসী সামরিক জোটে রূপ নেয়ার স্পষ্ট রূপ ফুটে উঠেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইউরোপজুড়ে ন্যাটোর সামরিক জ্বালানি পরিবহন অবকাঠামো বিস্তারের কড়া সমালোচনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অংশে পশ্চিম ইউরোপের পুরনো নেটওয়ার্কের সাথে নতুন পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোকে যুক্ত করতে নতুন পাইপলাইন ও বিশাল জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টি উঠে এসেছে। কেসিএনএর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বজায় রাখার মানসিকতা থেকেই ন্যাটো সামরিক জ্বালানি মজুদে মন দিয়েছে। একই সাথে জোটটি ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলকেও সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করে উত্তর কোরিয়া।
নিবন্ধে আরো বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে এক সূত্রে গেঁথে তাদের কৌশলগত সামরিক সরঞ্জাম প্রায়শই এই অঞ্চলে মোতায়েন করছে। পাশাপাশি পিয়ংইয়ংবিরোধী শক্তিগুলোর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে কোরীয় উপদ্বীপের সংলগ্ন এলাকায় সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ‘রিম অব দ্য প্যাসিফিক’ (রিমপ্যাক)-এর মতো বড় মাপের বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণকে এশিয়ার দিকে তাদের সামরিক সম্প্রসারণের প্রমাণ হিসেবে দেখছে দেশটি। উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনায় ন্যাটোর এই লজিস্টিক অবকাঠামো বিস্তার বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। তবে ন্যাটো শুরু থেকেই তাদের অবস্থানকে পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক দাবি করে আসছে; জোটটির মতে তাদের মূল লক্ষ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বহিরাগত হুমকি প্রতিহত করা।



