রুহুল আমিন আত্রাই (নওগাঁ)
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রেখে ত্রিপল টাঙিয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। অন্য দিকে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামে ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৪ সালে সরকারি উদ্যোগে চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন শিক্ষক এবং একজন নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন।
গত ২৩ জুন শ্রেণী চলাকালে তৃতীয় শ্রেণিকক্ষের একটি বিমের নিচের অংশের পলেস্তারা ও কংক্রিট ভেঙে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হলে তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ভবনটিতে এখন পাঠদান বন্ধ রাখা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ীভাবে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবিন ও খুশি জানায়, ত্রিপলের নিচে ক্লাস করতে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। অভিভাবক খলিলুর রহমান বলেন, সন্তানদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিবেশে স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা অন্তত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে খোলা জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। তবে অফিস পরিচালনার জন্য বিকল্প কক্ষ না থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভবনে বসছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পরিত্যক্ত ভবনে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



