প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে প্রতিনিধি
ফ্রান্সে অনিয়মিত বা অবৈধ অবস্থানে থাকা বিদেশীদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে জনমত আবারো তীব্রভাবে সামনে এসেছে। ইনস্তিতু সিএসএ পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৭৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যদি বিয়ের দুই পক্ষের একজন অবৈধ অবস্থানে থাকা বিদেশী হন, তাহলে সেই বিয়ে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।
জরিপের ফলাফল বলছে, ফরাসিদের একটি বড় অংশ এখন অভিবাসন ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আরো কঠোর অবস্থানের পক্ষে ঝুঁকছে। ফ্রান্সে বহু বছর ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু বিদেশী নাগরিক বৈধ কাগজপত্র বা বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ফরাসি নাগরিককে বিয়ে করেন। যদিও সব ক্ষেত্রে এমন নয়, তবুও এই আশঙ্কাকে কেন্দ্র করেই কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি উঠছে।
জরিপে বয়সভেদে স্পষ্ট পার্থক্যও উঠে এসেছে। তরুণদের তুলনায় বয়স্কদের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন অনেক বেশি। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। ৩৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে। আর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সমর্থনের হার ৮২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বয়স্কদের মধ্যে অভিবাসন নিয়ে নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ ফ্রান্সে অভিবাসন প্রশ্নে জনমতের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচয়, সামাজিক সংহতি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে অভিবাসন ইস্যু এখন ফরাসি রাজনীতির কেন্দ্রীয় আলোচনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের জনমত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
১৯ ও ২০ মে অনলাইনে এক হাজার ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ফরাসি নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে জরিপটি জাতীয় জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।



