রাশিদুল ইসলাম
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য মো: নূর খান লিটন বলেছেন, গুম হয়ে যাওয়া কমবেশি ২০০ মানুষের কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ১৮০০ অভিযোগ থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৫০০ মানুষের গুম হওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করা গেছে যাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে। গুম হয়ে যাওয়া অধিকাংশই ছিল বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী। এমনকি দলীয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় আওয়ামী লীগের অনেক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীও গুমের শিকার হয়েছে যাদের অতিরিক্ত বেপরোয়া মনে হয়েছে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা পাওনা টাকা না দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে ব্যবহার করেও নিদর্লীয় মানুষ গুম করা হয়েছে। ভিকটিমের পার্টনারই হয়তো গুমের ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে র্যাব, ডিবি বা এনএসআইকে ব্যবহার করা হতো। গুমের শিকার হয়েছেন ভিন্ন মতের লোকজন যারা ফেসবুকে মুক্তবুদ্ধির মানুষ হিসেবে লেখালেখি করতেন।
গুমের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্যে গুমের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, গুমের সাথে জড়িত ও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারলে এ বার্তাটা বাহিনীগুলো ও সমাজের মধ্যে যাবে ফলে এই ধরনের কাজ করতে কেউ সাহস পাবে না। এসব ঘটনা যখন আদালতে যাবে, পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পাবে তখন সামাজিকভাবে বিষয়টি একটা নাড়া দেবে। গুমের সাথে জড়িতরা আইনের বাইরে যার নির্দেশে গুম করুকনা কেন এদের পরিবার আছে, সমাজ আছে, আত্মীয় স্বজন আছে এরা কিন্তু জানে না। অনেকে ভদ্র মুখোশ পড়ে অনেকে গুম করেছেন কিন্তু এটা যখন উন্মুক্ত হয়ে যাবে, বিচারালয়ে যাবে তখন তার পরিবার জেনে যাবে, সমাজে তার মুখোশ উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এটা খুব জরুরি।
নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাাৎকারে নূর খান লিটন এসব কথা জানান। তিনি বলেন, মাত্র দেড় বছরে গুম নিয়ে অনুসন্ধান করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানবাধিকার কমিশনে সংরতি আছে। সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের এখনো বিচার করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্র যেখানে সব গুমের সামাল দিয়েছে তো এসব ঘটনার অনুসন্ধানে আরো সময় লাগবে। আমরা শুরু করেছিলাম, এ কাজ করার জন্য দেড়যুগও এনাফ না। গুমের সাথে অস্ত্র, রাজনীতিবিদ, নৌকা, ট্রেন মাইক্রোবাস অনেক উপষঙ্গ জড়িত। ব্যাপক কাজ করার জন্য যে অনুসন্ধান টিম দরকার তাও আমাদের ছিল না। এখন এ কাজ এগিয়ে নেয়া সরকারের দায়িত্ব। সাক্ষাৎকারের বিবরণ :
নয়া দিগন্ত : গুম যাতে না হয় সে জন্য রাজনৈতিক গ্যারান্টিটা কেমন হওয়া উচিত?
নূর খান : রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও ইন্সপাইরেশন ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজস্ব সিদ্ধান্তে এক দুইটি গুমের ঘটনা ঘটাতে পারে। পরপর গুমের ঘটনা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ছাড়া ঘটে না। দ্বিতীয়ত গণতন্ত্র থেকে যখন বিচ্যুতি ঘটে তখনি এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, মানুষকে হত্যা করা গুম করা, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা, ফলস মামলা দেয়া, তখনি এগুলো হয় যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুতি ঘটে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত ত্রুটি বা দুর্বলতা রয়ে গেছে। এতবড় একটা অভ্যুত্থান সংঘটিত হলো তারপরও দেখেন রাজনীতিতে সমঝোতার জায়গাটা ক্রমান্বয়ে সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আকাক্সক্ষার সাথে রাজনীতিবিদরা সুর মিলাতে পারছেন না। এখনি চূড়ান্ত মত দেয়াটা ঠিক না, তারপরও কখনো কখনো আশঙ্কা হয় সহজ পন্থায় আইনশৃঙ্খলা রার নামে মানুষের ওপর বর্বরোচিত অপরাধ সংঘটিত হবে কি না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন খারাপের দিকে যাবে জনগণ এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করবে সরকারের কাছে। সরকার তখন মূল জায়গায় না হেঁটে, বিগত সরকারগুলোর সময় কমবেশি ২৫ বছর ধরে ক্রসফায়ারের ঘটনা আমরা দেখছি, তার মানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নয়নের জন্য ক্রসফায়ার বা গুম প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করতে পারে, এটা কিন্তু একটা ভয়াবহ জিনিস।
নয়া দিগন্ত : অনেক সময় মতা কুগিত রাখতে গুম খুনের মতো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখা গেছে
নূর খান : হ্যাঁ নিজেদের মতা বহাল বা টিকিয়ে রাখার জন্য কেউ যাতে প্রশ্ন না করে, আমি লুটব কেউ কথা বলতে পারবে না, সে জন্য গুম, ক্রসফায়ারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
নয়া দিগন্ত : তার মানে এখনো ঝুঁকিটা রয়ে গেছে?
নূর খান : এই ঝুঁকি থেকে রা পেতে চাইলে গণতন্ত্রের বিকল্প নাই, আর গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ারও কোনো বিকল্প নাই। গণতন্ত্র মানে শুধু পার্লামেন্ট না। গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন না। সহনশীলতা, অন্যের অধিকার যাতে ক্ষুণœ না হয়, গণতন্ত্রে সেটাও আছে। রাজনীতিতে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা এবং সেই জায়গায় সবার আন্তরিকতা থাকতে হবে। যেটি সাম্প্রতিককালে কিছু জায়গায় সন্দেহ তৈরি করছে।
নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিক প্রতিপকে হত্যাযোগ্য করে তোলার জন্য অনেকসময় বয়ান তৈরি করা হয়, নির্মূল করার কথা বলা হয়...
নূর খান : দ্যাখেন নির্মূল শব্দটা যিনি উচ্চারণ করেছেন সম্ভবত আমার ধারণা বয়সগত কারণে তিনি করেছেন, তা না হলে তাদের সবার মুখ দিয়েই এ শব্দটা আসত, সেটা আসেনি, একজনের এবং তার বয়স, পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছে স্লিপ অব টাং হয়েছে। এটা আমি মনে করি। কিন্তু মনোজগতেও যদি নির্মূল শব্দ থাকে, তাহলে এটা ফ্যাসিস্ট তৈরির একটা হাতিয়ার হয়ে যাবে।
নয়া দিগন্ত : রাজনীতিতে গুপ্ত সুপ্ত বিতর্ক চলছে...
নূর খান : গুপ্ত সংগঠন বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমল থেকেই ছিল, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন তারা গুপ্ত ছিলেন, নিজের আইডেন্টিটি বাদ দিয়ে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলের সাথে থাকতেন পরবর্তীতে কমিউনিস্টরা করেছেন, সমাজতন্ত্রীরা করেছেন কিন্তু এইবার প্রশ্নটা ভিন্ন কারণ যারা গুপ্ত হিসেবে ফ্যাসিস্ট রেজিমের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে গুপ্ত প্রশ্নটা একেবারে অবান্তরও না। অন্য কোনো দলের ভেতরে থাকলে এটা আসত না। ফ্যাসিস্টের যে আক্রোশ, আপনি তার পে লাঠি নেননি, তার মিছিলে শামিল হয়ে, সংগঠনে শামিল হয়ে সংখ্যাতো বাড়িয়েছেন।
নয়া দিগন্ত : গুপ্ত বিতর্ক রাজনীতিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে কী না
নূর খান : এই গুপ্ত সুপ্ত নিয়ে বিতর্কের একটা শেষ হওয়া দরকার। যে কোনো রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা হওয়া দরকার আলাপ আলোচনার মাধ্যমে। এটাও ঠিক তৎকালীন প্রোপটে যে যেখানে পারছে আশ্রয় নিয়েছে হয়তো বা। ওই জায়গাটায় সুবিচার করতে হবে। যেমন সরকারি দল আর এর বাইরে অবস্থান নেওয়া।
নয়া দিগন্ত : বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিত করে সরকার বলছে আরো কঠোর আইন করবে, আপনার পর্যবেণ কী?
নূর খান : আমি শুধু পর্দা বা পার্টিসনের এই পাশে দেখছি তা নয়, ওই পাশও বিবেচনা রাখছি। ৫ আগস্টের পর জনগণের যে ঐক্য ছিল সে ঐক্যের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু অর্জন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে ওইখান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কারণে জনগণের ঐক্যের মধ্যে ফাটল, জনগণের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া, এসব কারণে ওই জায়গাটা দুর্বল হয়েছে। ফলে যাদেরকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে গুম খুনের েেত্র তারা তো একটা বাহিনীর সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের একটা কমিউনিটি আছে, তাদের পেশাগত একটা পরিচয় আছে, ওখানে আমরা যেমন সহযোগিতা পেয়েছি বলব, আবার অসহযোগিতাও ছিল। আমি যদি খুন বা গুমের সাথে জড়িত থাকি, আমাকে সন্দেহজনক আসামিও করা হয়, তাহলে কিন্তু আমাকে গ্রেফতার করে জেলখানায় পাঠাবে। কিন্তু আমাকে সাবজেলে কখন তার মানে এটা একটা বিশেষ বিবেচনায়, বিশেষ বিবেচনাটা কেন হয়, তার মানে এক ধরনের চাপ ও পরিস্থিতিগত কারণে। এখন পর্যন্ত যেটা ল করা যাচ্ছে সেটা চাপ ও পরিস্থিতিকেও অ্যাড্রেস করতে হচ্ছে সরকারকে। কোনো তথ্যের ভিত্তিতে এটা বলছি না, এটা আমার ধারণা। সেই কারণে কখনো কখনো মনে হয়, যেমন মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৫, কমপে ৬০০ মানুষের সাাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে, আলোচনা করা হয়েছে তাদের সাথে, যারা আলোচনায় ছিলেন তাদের অনেকেই মন্ত্রী হয়েছেন এখন, কোথাও কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে দূর করা যেত, সেটা সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সম্ভব ছিল সুরাহা করার কারণ মেজর ত্রুটি তো থাকার কথা না। মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপারে। এই জায়গায় বাহিনীগুলোর প্রচণ্ড আপত্তি আছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর ভেতরে আপত্তি থাকাটাই স্বাভাবিক। আবার জনগণের দিক থেকে দেখলে এই তদন্ত করার মতা যদি না থাকে তাহলে যারা অপরাধ করবে তারা পার পেয়ে যাবে এবং সরকার এ বিষয়ে কড়া পদপে নিতে পারবে না। যেহেতু আমাদের মতো দেশগুলোতে সেনাবাহিনীর একটা শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। জনগণের কাছে সেনাবাহিনীর শক্তি তখন থেঁতলিয়ে যায় বা একটা নিরবতা পালন করে যখন জনগণ শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়। আইনগুলোকে রহিত করার মধ্যে দিয়ে সরকারের অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার পর আমাদের আরেকটু অপো করতে হবে আইনগুলো কতটা সবল হয়। নাকি দুর্বল হয়। কোন কোন অংশ ছেঁটে ফেলে। তদন্ত করার মতা কমিশনের থাকা উচিত কিন্তু কাউকে গ্রেফতার বা আটক করার েেত্র আদালতের অনুমতির প্রয়োজন আছে। প্রয়োজনে বাহিনী ও সরকারের সাথে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বসতে পারে যে কোথায় তারা দেখছেন আইনের বাইরে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম হতে পারে। তাদের তি হতে পারে এমন মনে করলে বসে ঠিক করে নেয়া ভালো।
নয়া দিগন্ত : গুম যেহেতু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে তো এটার বিহিত তো রাষ্ট্রীয়ভাবেই করা উচিত
নূর খান : মানবাধিকার কমিশনের সর্বশেষ দিনেও আমাদের কাছে গুমের অভিযোগ এসেছে। সিক্রেট প্রিজন দেখা গেছে, একটা গ্রুপ মানুষকে উঠিয়ে নিয়েছে, তারপর আরেকটি গ্রুপের হাতে হ্যান্ডওভার করেছে, তারপর এক বা একাধিক গ্রুপ তাদের মধ্যে কাউকে মুক্তি দিয়েছে কাউকে হত্যা করেছে। যে মানুষগুলোকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, যারা উঠিয়ে নিয়েছেন, তারা এতবেশি প্রশিতি যে তাদের চিহ্নিত করা টাফ ছিল। যেহেতু রাষ্ট্রের মদদে এসব গুম হয়েছে, সব ধরনের প্রিকসন নিয়েই তারা কাজগুলো করেছে। উঠিয়ে নিয়েছে এমন ঘটনাই বেশি চিহ্নিত করা গেছে, কিছু কিছু েেত্র হত্যার বিষয়টিও। কাজটা আমাদের চলমান ছিল। সবগুলো গুম চিহ্নিত করেছি এমন মনে করার কোনো কারণ নাই।
দ্বিতীয়ত আমরা অনুসন্ধান করেছি, তদন্ত করিনি, তদন্ত করার এখতিয়ার আমাদের ছিল না। ২০২৫ সালে যে মানবাধিকার কমিশনের আইন করা হয় তাতে কমিশনের তদন্ত করার মতা দেওয়া হয়েছিল। অনুসন্ধান করে যা পেয়েছি তার বড় অংশই আইসিটির চাহিদা মোতাবেক তাদের দেয়া হয়েছে। এগুলো সরকারের এখতিয়ারে রয়েছে। গুমের পর যারা ফিরে আসতে পেরেছেন ভিকটিমদের জবানবন্দীতে জেনেছি খুবই ছোট জায়গা, সাড়ে তিন ফিট-চার ফিট বা চার ফিট-তিন ফিট এরকম জায়গায় তাদের আটকে রাখা হতো। আমরা নিজেরাও কয়েকটি সিক্রেট প্রিজন দেখেছি। সেখানেই তাদের প্রস্রাব, পায়খানা সারতে হয়েছে। এমন পরিবেশে তাদের রাখা হয়েছে সেখানে দিন কি রাত বোঝার উপায় ছিল না। কেবলমাত্র সকালের নাশতা রুটি বা খিচুড়ি দিত তখন তারা বুঝত যে একটা দিন অতিক্রম করেছে। বন্দীদের মধ্যে ভাগ্যবান যারা তারা মুরগির হাড্ডি বা মাছের কাঁটা লুকিয়ে রাখত যা দিয়ে দেওয়ালে দাগ দিত একটা করে দিন চলে যাওয়ার হিসাব রাখত। সিক্রেট প্রিজনের দেওয়ালে কেউ সূরা লিখে রাখত, কেউ লিখেছে, ‘আমি দেশটাকে ভালোবাসি’, কেউ জাতীয় স্মৃতি সৌধের ছবি এঁকেছে, কেউ মোবাইল নম্বর, সন্তানের, স্ত্রীর, নিজের নাম লিখেছে। এগুলোর সংরণের কথাও বলা হয়েছে। একটা জিনিস চিন্তার বাইরে, যেমন- নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় জড়িত ছিল একটা ব্যাটালিয়নের সৈনিক থেকে সিও পর্যন্ত। তার মানে ওই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বা সামরিক সচিব গুমের ঘটনা জানতেন। গুমের ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী একটি বাহিনীর একজন সিওর বক্তব্য পাওয়া গেছে। যেখান থেকে গুম মনিটরিং করা হচ্ছিল, যারা ভিকটিমদের মোবাইল ফোনে আড়ি পেতেছিলেন, ফিল্ডে যারা উঠিয়ে নিতেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। গুমের পর ভিকটিমদের কোথায় হস্তান্তরিত করা হয়েছে তারা সেটাও বলেছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। মোহাম্মদপুর থেকে একজন কুরআনে হাফেজ ও শিবির নেতাকে গুমের পর ৫ আগস্টের গুমের সাথে জড়িত একজন আমাদের মোহাম্মদপুরে সেই বাড়িটি দেখিয়েছে। বাড়ির মালিকও স্বীকার করেছেন গুমের ঘটনা।
উঠিয়ে নেয়ার পর তাদের নির্যাতন করা হতো। নখ উপড়িয়ে ফেলা, পিটানো, ছাদের সাথে ঝুলিয়ে উলঙ্গ করে দীর্ঘ সময় রাখা এবং বেত্রাঘাত করা, ইলেকট্রিক শক দেয়া, ঘূর্ণায়মান চেয়ারে বসে ঘুরানো এগুলো খুব সামান্য। এর চেয়ে জঘন্য বিষয় ছিল, কাউকে কাউকে অপজিট লিঙ্গের মানুষকে এনে উলঙ্গ করে পৈশাচিক ঘটনা ঘটানো হতো। বন্দীশালায় একজন কিশোর নির্যাতনে অপ্রকৃতস্থ হয়ে যায়, গান গাইত, চিৎকার করত, গায়ে কাপড় থাকত না। যারা এ কিশোরের গুমের সাথে জড়িত ছিল আমরা তাদেরও সাাৎকার ও জবানবন্দী নিতে সম হয়েছি।



