মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাইতলা পশুরহাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই দিনে পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরেকটি পশুরহাট বসানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিরোধ, যা থেকে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো কাইতলা পশুরহাট গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচার জন্য সুপরিচিত। প্রতি বছর এ হাট থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে থাকে। চলতি অর্থবছরেও এ হাট থেকে প্রায় তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকার রাজস্ব পাওয়া গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, পাশের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের দেওদীঘি এলাকায় বাঁশের হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেখানে পশুরহাট বসিয়েছেন। কাইতলা হাটটি সপ্তাহে শনিবার বসে থাকলেও, দেওদীঘি হাটটি আগে সোমবার বাঁশ বিক্রির জন্য নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে কাইতলা হাটের দিনই দেওদীঘিতে পশুরহাট বসানো হচ্ছে, যা কাইতলা হাটের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাইতলা হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান ২১ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দেওদীঘি হাটের কারণে কাইতলা হাটে আগত পাইকার ও খামারিদের জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ফলে হাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় পাইকার আব্দুল লতিফ ও আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা কাইতলা হাটে গরু বিক্রি করছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বাধ্য করা হচ্ছে দেওদীঘি হাটে গরু নিতে, এতে তারা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না।
ইজারাদার মাসুদুর রহমান বলেন, একই দিনে কাছাকাছি দু’টি পশুরহাট বসালে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেওদীঘি হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের চাহিদার ভিত্তিতে সেখানে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে, কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নেই।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।



