নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে দাবানল নেভানোর কাজে ব্যস্ত দমকলকর্মীদের অপ্রত্যাশিত সঙ্গী হয়ে ওঠে ‘গোল্ডি’ নামে একটি পোষা ছাগল। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাদের সাথে থেকে পথ দেখানো থেকে শুরু করে ঝোপঝাড় খেয়ে আগুনের জ্বালানি কমাতেও যেন ভূমিকা রাখে প্রাণীটি।
কলোরাডো স্প্রিংসের রক ক্রিক দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন দমকলকর্মীরা। দুর্গম পাহাড়ি পথে আগুনের উৎসের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি বাদামি-সাদা রঙের ছাগল তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। পরে সেটিই দলটির সামনে সামনে হাঁটতে শুরু করে এবং আগুনের এলাকার দিকে নিয়ে যায়।
চার বছর বয়সী নাইজেরিয়ান ডোয়ার্ফ জাতের ছাগলটির নাম ‘গোল্ডি’ বা ‘গোল্ডেন ওরিও’। আগুন নেভানোর পুরো সময় সে দমকলকর্মীদের পাশেই ছিল। কোথাও কোথাও ঝোপঝাড়ের পাতা খেয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য জ্বালানি কমাতেও দেখা যায় তাকে। কাজ শেষে দমকলের ট্রাক পর্যন্ত অনুসরণ করে গোল্ডি। এমনকি একটি গাড়ি চলে যাওয়ার পরও কিছু দূর পর্যন্ত তার পেছন পেছন দৌড়ায় সে।
কলোরাডো স্প্রিংস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের লেফটেন্যান্ট ট্রেভর লিল্যান্ড বলেন, ছাগলটি সরাসরি আগুন নেভানোর কাজ না করলেও পুরো দলের জন্য দারুণ মানসিক প্রেরণা ছিল। এমন একটি প্রাণীর উপস্থিতি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি আনে। মধ্যাহ্নভোজের সময় গোল্ডি বন বিভাগের এক সদস্যের কাঁধের ওপর মাথা বাড়িয়ে খাবারের ভাগ নেয়ার চেষ্টাও করে। ঘটনাটি সবার মধ্যে হাসির খোরাক জোগায়।
দমকল বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোল্ডির ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘প্রতিটি দলের একজন ভালো নেতা দরকার। আমাদের দলের নেতার চারটি পা।’ তারা মজার ছলে আরো জানায়, গোল্ডিকে এখনই দমকলের ব্যাজ দেয়া হচ্ছে না, তবে সেটি একেবারেই অসম্ভবও নয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর লাখো মানুষ তা দেখেন এবং অনেকে ছাগলটিকে ‘সম্মানসূচক দমকলকর্মী’ ঘোষণার দাবিও তোলেন।
পরে জানা যায়, গোল্ডি স্থানীয় বাসিন্দা লিন্ডসি গ্লেডারের পোষা ছাগল। তিনি বলেন, গোল্ডি খুবই মিশুক স্বভাবের। সম্ভবত সে বুঝতে পেরেছিল কঠিন পরিস্থিতিতে কর্মীদের একটু সঙ্গ প্রয়োজন। তিনি দমকলকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ কাজ করেছেন, আর গোল্ডি শুধু তাদের ক্লান্তির মধ্যে কিছুটা হাসি ও স্বস্তি এনে দিয়েছে।



