ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের লাগাম নিজেদের হাতেই রেখেছে বাংলাদেশ। উইকেট থেকে বোলাররা যথেষ্ট সুবিধা পাওয়ায় এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যেকোনো দলের জন্যই যে চরম কঠিন হবে, তা বলাই বাহুল্য। পাকিস্তানকে ২৩২ রানে গুটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে তিন উইকেটে ১১০ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ফলে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১৫৬ রানে। হাতে এখনো আছে সাত উইকেট। ফলে তৃতীয় দিনে বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ শান্তবাহিনীর সামনে।
পুরো দিনের খেলায় বাংলাদেশ ছিল স্পষ্টতই এগিয়ে। প্রথমে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে কম রানে আটকে দেয়া, এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে চাপ সামলে ইতিবাচক ব্যাটিং- সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী এক বাংলাদেশকেই দেখা গেছে চায়ের দেশে। লিটন দাসের ১২৬ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি লড়াই করার যে ভিত্তিটা তৈরি করে দিয়েছিল তার ওপর দাঁড়িয়ে এখন বড় পুঁজির দিকে এগোচ্ছে টাইগাররা। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে অন্তত আরো ২০০ রানের বেশি যোগ করা, যাতে পাকিস্তানের সামনে চতুর্থ ইনিংসে বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করানো যায়!
গতকাল দিনের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে। মেঘলা আবহাওয়া আর পেস সহায়ক উইকেটকে দারুণভাবে কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ। আগের দিন বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে খেলা শুরু করা পাকিস্তান দ্রুতই চাপে পড়ে। দ্বিতীয় ওভারেই আবদুল্লাহ ফজলকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন। এরপর আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসও তার শিকার। মাত্র ২৬ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। এরপর বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ এসে সেই জুটি ভাঙেন। ২১ রান করা মাসুদ আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের মিডল অর্ডার আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। সৌদ শাকিলকেও চাপে রেখে আউট করেন মিরাজ। মধ্যাহ্ন বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ৯৬ রান।
একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অভিজ্ঞ বাবর আজম। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৬৩ বলে তুলে নেন ফিফটি। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি এই তারকা ব্যাটার। নাহিদ রানার গতিময় ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিকের হাতে। ৮৪ বলে ১০ চারে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন বাবর। তার আউটের পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে পড়ে।
স্পিনে তাইজুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আগা সালমান, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হাসান আলীকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে দ্রুত গুটিয়ে দেন তিনি। শেষদিকে সাজিদ খান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাইজুল ইসলামের এক ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন এই অলরাউন্ডার। মাত্র ২৮ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার বলে তানজিদের দুর্দান্ত ক্যাচে তার বিদায়ে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তান। নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। তাসকিন ও মিরাজ দু’টি করে উইকেট পান। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করা বাংলাদেশ ৪৬ রানের লিড পায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ফের ব্যর্থ হন। মাত্র চার রান করে খুররম শাহজাদের বলে আউট হন। তবে দৃঢ়তা দেখান টেস্টে লাগাতার খারাপ করা মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক। আক্রমণাত্মক মেজাজে ওয়ানডে স্টাইলে ৬৪ বলে ১০টি চারে ৫২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন জয়। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুলের সাথে গড়েন ৭৬ রানের জুটি। জয়ের বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মুমিনুলকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন। মুমিনুল ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৬০ বলে ৩০ রান করলেও দিনের শেষ দিকে অযথা খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর আম্পায়াররা দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। শান্ত ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।
বৃষ্টি না হলে চতুর্থ দিনেই শেষ হওয়ার কথা সিলেট টেস্ট, সেটা একরকম নিশ্চিত। ঢাকা টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজ হার ঠেকাতে এই টেস্ট জিততেই হবে পাকিস্তানকে। তবে সফরকারীদের জন্য সমীকরণ মেলানো কঠিনই হবে বৈকি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-(দ্বিতীয় দিন)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ (লিটন ১২৬, শাহজাদ ৪/৮১)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ২৩২ (বাবর ৬৮, সাজিদ ৩৮, সালমান ২১, তাইজুল ৩/৬৭, নাহিদ ৩/৮০, মিরাজ ২/২১, তাসকিন ২/৩৭)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ২৬.৪ ওভারে ১১০/৩ (জয় ৫২, তানজিদ ৪, মুমিনুল ৩০, শান্ত ১৩*; আব্বাস ১/২৯, শাহজাদ ২/১৯)।
দ্বিতীয় দিন শেষে : বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে।



