আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

দুপুর আমার রঙমহলে

সুজন সাজু

মাঠে যখন রোদগুলো সব সোৎসাহে খুব মাতে

দুপুর তখন ডাকছে স্নেহে আসো খেলি সাথে

নীরব নিঝুম পাতার ফাঁকে

শান্ত ঘুঘুর আপন ডাকে

কী এক প্রীতির সোহাগ ঝরে দুপুর মহিমাতে

ইচ্ছেগুলো উড়াল মারে দূরের অজানাতে।

দুপুর মানে ছুটতে যাওয়া

নন্দ খুশির বয়াম পাওয়া

মাঠের পরে মাঠ প্রান্তরে ঘাস বিছানায় হাঁটা

আদরের ধন খুঁজতে থাকা ডেকে চলে মা’টা

কে শোনে কার কথা তখন দুপুর আলিঙ্গনে

আঁতাত করি শখ মহিমায় গভীর সঙ্গোপনে।

সকাল ছুড়ে দুপুর আসে বিকেল হওয়ার আগে

দুরন্ত মন উড়ন্ত হয় কৌতূহল বেশ জাগে

রোদের সাথে বোধের বাঁধন অনন্য এক ছোঁয়া

ঝিম ধরা সেই ক্ষণ প্রকৃতি কোলে নিশ্চুপ শোয়া।

ঈশান কোণে পুষ্করিণীর তিন্তিড়ির শাখ শাখে

মাছরাঙাটির শিকার ক্ষণে দৃষ্টির ছবি আঁকে

পেট ভরিয়ে মাঠের গরু কাটছে জাবর বসে

দুপুর আমার রঙমহলায় দেয় রাঙিয়ে রসে।


ভাষার দাবি

কামরুজ্জামান দিশারি

ভাব প্রকাশে ভাষা লাগে

নয় তো তুমি বোবা

ভাষা হলো মতপ্রকাশের

অনন্ত এক শোভা।

যে ভাষাটা মায়ের ভাষা

যে ভাষাটা মুখের

যে ভাষাতে বললে কথা

শান্তি নামে বুকের।

মায়ের মুখের সে ভাষাটা

রক্ষা করতে গিয়ে

সালাম বরকত রফিক জব্বার

রক্ত গেল দিয়ে।

উর্দু হলো ভিনদেশীয়

ভিন জাতিদের ভাষা

বাঙালিরা বলবে সেটাই

এ কোন সর্বনাশা!

ভাষার দাবি রাখতে বহাল

দেশকে ভালোবেসে

প্রাণ দিয়েছে অকাতরে

বীর বাঙালি হেসে।


পীর সাহেবের ফুঁ

সেলিম এমরাজ

কোলা ব্যাঙের পুতে

এবার নাকি রাজা হবে

রাজা হয়ে তাজা হবে

পীর সাহেবের ফুঁ-তে।

ঢোড়া সাপের পুতে

মাথা তুলে বলে ছা-তা

এক্কেবারে হবে যা তা

রাজা হওয়ার জন্য তো বেশ

আমি আছি বুথে

আমিই না হয় রাজা হবো

পীর সাহেবের ফুঁ-তে।

কোলা ব্যাঙের পুতে

করবে কী আর পায় না ভেবে

ঢোড়া সাপের কুণ্ডতে

বিপদ দেখে খেয়ে দেয়ে

যায় এখনই শুতে।

পীর সাহেবের ফুঁ-তে

দূর থেকে সব চেয়ে চেয়ে

দেখছে মেছো ভূতে।


আমার ছিল

মিয়া ইব্রাহিম

আমার ছিল সোনালি ভোর

চটুল ছেলে বেলা

খেয়াল খুশি কাটছে জীবন

করে হেলা ফেলা ।

আমার ছিল একটি নদী

নদীর তীরে বাড়ি

বাঁশ বাগানের ছায়ায় ঘেরা

বৃক্ষ সারি সারি।

আমার ছিল একটি সাগর

দুঃখ ভরা জল

শব্দবিহীন জলের স্রোত

করত ছলাৎ ছল ।

সব হারিয়ে এখন আমি

পাহাড় টিলায় থাকি

সেই পাহাড়ে আছে যত

সুখের মাখামাখি ।

ভালোবেসে আমায় ডাকে

পাহাড় মিলায় বুক

বুক পাহাড়ে নেই যাতনা

আছে শুধুই সুখ ।


অমর একুশ

যাইদ আল মারুফ

অমর একুশ আমার তোমার

লক্ষ কোটি আমজনতার

নতুন ভোরের আলো;

ভাষার প্রতি প্রেম বেড়ে যায়

মন হয়ে যায় ভালো।

অমর একুশ স্বদেশ টানের

রক্তে লেখা দেশের গানের

প্রতিবাদী কথা;

অমর একুশ আমার মায়ের

কূলহারা এক ব্যথা।

অমর একুশ মল্লা মাঝির

বীর বাঙালি শহীদ গাজীর

মহা রণতরী;

দেশকে ভালোবাসতে চলো

তাদের স্মরণ করি।


ক্ষুধার্ত আয়না

রাকিবুল ইসলাম রাহান

পথের ধারে অনাহারে

শুকনো মুখে চায়

দুঃখ মাখা করুণ ছবি

ধুলায় মিশে যায়।

একটুখানি ভাতের আশায়

ঘোরে দ্বারে ঘরে

ব্যথার পাহাড় জমছে কেবল

তপ্ত বালুচরে।

আঁধার রাতে ফুটপাথে ওই

নেইকো কোনো ঘর

একটুখানি মায়া পেতে

কাঁদে সে থর থর।

আমরা যদি খাবার বিলাই

বাড়িয়ে দু’টি হাত

হাসবে শিশু ভুলবে তবে

উপসী সেই রাত।

বিলাসিতা করব না আর

মনে জাগুক ভয়

মানুষ হয়ে পাশে থাকা

আসল বড় জয়।


একুশ এলেই

কাজী আবুল কাসেম রতন

একুশ এলেই শহীদ মিনার

সাজে ফুলে ফুলে

একুশ এলেই গায় যে পাখি

গাছের ডালে ডালে।

বাংলা ভাষার জন্য বলো

প্রাণ দিয়েছে কারা

বাংলা মায়ের ধন্য ছেলে

বীর সেনানী যারা।

একুশ মানে মুক্ত হাসি

সবার মনের আশা

একুশ মানে দীপ্ত আশা

শান্তি-সুখের বাসা।


ফেব্রুয়ারি

শেখ সালমান শাহী

ফেব্রুয়ারি,স্মৃতি স্মরণের মাস

চোখের কোণে জল ভারী

ফেব্রুয়ারি।

ফেব্রুয়ারি, শহীদ সন্তানের মাস

ভাষার তরে গিয়েছে ঝরি

ফেব্রুয়ারি।

ফেব্রুয়ারি, বাবা হারানোর মাস

ন্যায় দাবির ফিরিনি বাড়ি

ফেব্রুয়ারি।


ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস

শাহাবউদ্দিন শামীম

প্রভাতফেরির গল্প গানে মায়ের কথার সুর

বাংলা আমার মুখের ভাষা আহা কী মধুর

আবিরমাখা পলাশ শিমুল রক্তের বর্ণমালা

শহীদ মিনার উঠছে ভরে মায়ের অর্ঘ্যঢালা।

ভাষার জন্য বুকের রক্ত কে ঢেলেছে আগে

মায়ের ভাষা সবার সেরা বিশ্ব বিবেক জাগে

একুশের প্রথম প্রহর রফিক বরকত আসে

ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস শহীদ মিনার হাসে ।


ছুটি

আসাদ সরকার

পড়তে বসে ক্যালেন্ডারের

খুঁজি পাতায় পাতায়

গ্রীষ্মের কালে ছুটি খুঁজে

লিখে রাখি খাতায়।

ছুটির কথা মনে হলে

পড়তে মন যে চায় না

নানান ছলে মায়ের কাছে

চলে শত বায়না।

বাজবে কবে ছুটির ঘণ্টা

চিন্তা করি বসে

অঙ্ক রেখে সময় চলে

ছুটির হিসাব কষে।