সিএনএনের বিশ্লেষণ
ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব তাদের দীর্ঘদিনের প্রথাগত পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কৌশলে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিএনএনের এক বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্টে বলা হয়েছে, তেহরান এখন আর কেবল ছায়া গোষ্ঠী, গোপন অভিযান কিংবা সীমিত প্রতিশোধের ওপর নির্ভর করে নেই; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতেও দ্বিধাবোধ করছে না।
চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের ওপর ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে এই কৌশলগত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কয়েক দশক ধরে ইরান ও ইসরাইলের শত্রুতা মূলত পরোক্ষ সঙ্ঘাত এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার তেহরান সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাবে তেহরানের এই আক্রমণ এক কড়া বার্তা বহন করছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ‘রেড লাইন’ বা লাল রেখা এখন আর শুধু নিজস্ব সীমানার মধ্যে আটকে নেই; বরং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর যেকোনো বড় হামলাও এখন সরাসরি ইরানের প্রতিক্রিয়ার কারণ হবে।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও তেহরান অভিযোগ করে আসছে যে, ওয়াশিংটন ও ইসরাইল ক্রমাগত সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে সেই চুক্তির অমর্যাদা করছে। লেবাননে ইসরাইল প্রায় সাড় তিন হাজার হামলা চালিয়েছে বলে খোদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। এর পাল্টা জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে তারা পারস্য উপসাগরের বাইরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।



