নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির সব প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ‘হাঁটু গেড়ে না বসানো’ পর্যন্ত কোনো ধরনের আপস বা শান্তি আলোচনা হবে না।
এ দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, যা এখন এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত মোড় নিয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ দাবি করেছেন, মঙ্গলবার রাতভর বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিদানি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। এই দাবি সত্য হলে এটি হবে যুদ্ধের শুরু থেকে তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত।
অন্যদিকে, তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই; তারা ইসরাইলের কৌশলগত অস্ত্র কারখানা ও সাইবার কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানছে। ফলে কাতারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে লোহিত সাগরে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা ধরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
প্রথম বৈঠকেই কঠোর বার্তা : বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বৈদেশিক নীতি নির্ধারণী বৈঠকে বসেন মোজতবা খামেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘চরম কঠোর এবং প্রতিশোধমূলক’ অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি এই বৈঠকে সশরীরে নাকি ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও শর্তারোপ : রয়টার্স জানিয়েছে, দু’টি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্তেজনা কমানোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতির বিশেষ প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। এর জবাবে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘শান্তি স্থাপনের সঠিক সময় এখন নয়। আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হাঁটু গেড়ে বসে পরাজয় স্বীকার করতে হবে এবং যুদ্ধের যাবতীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ উল্লেখ্য, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই যেকোনো রাষ্ট্রীয় ও সামরিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী।
লারিদানি ও বাসিজ প্রধানকে হত্যার দাবি : ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব আলী লারিদানি এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিদানিই ছিলেন দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি শাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ‘নির্মূল’ করার যে আদেশ দেয়া হয়েছিল, এটি তারই অংশ। যদিও তেহরান লারিদানির মৃত্যুর খবর এখনো নিশ্চিত করেনি, তবে তার একটি হাতে লেখা নোট প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ‘বাসিজ’ বাহিনী মূলত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে আইআরজিসির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উইং হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতার চাপ : উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালী সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নৌপথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।
দুর্ভিক্ষের সতর্কতা ডব্লিউএফপির : বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে যে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আগামী জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও লজিস্টিক সঙ্কটে খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী মারাত্মক অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা নিরসনে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
কাতারে ‘উচ্চতর’ নিরাপত্তা সতর্কতা : যুদ্ধের আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। কাতার কর্তৃপক্ষ গতকাল এক জরুরি বার্তায় দেশে ‘উচ্চতর’ নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যেই কাতারের একটি শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একটি ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে সেটির খণ্ডাংশ নিচে পড়লে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে একটি তেলের ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সমুদ্র চলাচলবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। যদিও এতে বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট : বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সঙ্কটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌপথ খুলে দিতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইলেও এখন পর্যন্ত তেমন সাড়া পাননি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির-আবদুল্লাহিয়ান জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে ফোনালাপে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের ফল। তিনি বিশ্বসম্প্রদায়কে এই ‘সামরিক আগ্রাসন’ নিন্দা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরাইলের সাইবার ও অস্ত্র কারখানায় হামলা : ইসরাইলের অভ্যন্তরেও তেহরান তার হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরাইলি পুলিশের সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং বিখ্যাত ‘রাফায়েল’ অস্ত্র নির্মাণ কারখানায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। উত্তর ইসরাইলের নাহারিয়া ও উত্তর-পশ্চিমের শহরগুলোতে দিনভর সাইরেন বাজতে শোনা গেছে এবং বেশ কিছু শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের শিকার হয়েও ইরানের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা অটুট থাকা ইসরাইলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবাননে ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত : ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন চরমে পৌঁছেছে। রাজধানী বৈরুতের আবাসিক এলাকায় বিমানহামলায় গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৮৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশই নারী ও শিশু। লেবানন সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইতোমধ্যে ১০ লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের বিশাল একটি এলাকা এখন জনশূন্য। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তর ইসরাইলের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লেবাননের এই শরণার্থীরা নিজ ভিটায় ফিরতে পারবেন না।
তেহরানে ধ্বংসযজ্ঞ ও গোয়েন্দা তৎপরতা : ইরানের রাজধানী তেহরানে গত ১৮ দিনে অন্তত ১২ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেঘ মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরাইলি মিসাইল হামলায় সাধারণ মানুষের আবাসন খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ১০ জন ‘বিদেশী গুপ্তচর’ গ্রেফতারের দাবি করেছে। আইআরজিসির দাবি, এই ব্যক্তিরা রাজতন্ত্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহায়তায় ইরানের সংবেদনশীল স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন সরাসরি বিদেশী শক্তির হয়ে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের চেষ্টায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা : ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দূতাবাসের ‘সি-র্যাম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দু’টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করলেও একটি ড্রোন দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আছড়ে পড়ে। এতে সেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ আগে মার্কিন হামলায় বাগদাদের জাদরিয়া এলাকায় একটি ইরানপন্থী গোষ্ঠীর চার সদস্য নিহত হন। ফলে ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ঝুঁকি আরো বেড়েছে।
মার্কিন রণতরীতে আগুন ও অস্থিরতা : লোহিত সাগরে মোতায়েন করা এক লাখ টন ওজনের মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে সঙ্কটের মুখে। রণতরীটির লন্ড্রি অংশে লাগা আগুন টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলেছে। ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রণতরীর অন্তত ৬০০ নাবিক থাকার জায়গা হারিয়েছেন। টয়লেট সমস্যা ও লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় চার হাজার ৫০০ ক্রুর জীবন এখন ‘চরম অস্বস্তিকর’ হয়ে উঠেছে। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে এতে তাদের সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি, তবে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীর সেনাদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’।
মিত্রদের ভূমিকায় ট্রাম্পের ক্ষোভ : যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মিত্রদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে ব্রিটেনের দেরি করে সাড়া দেয়া এবং প্রাথমিক অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনায় ট্রাম্প ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হওয়া উচিত ছিল।’ তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো হরমুজ প্রণালীর সঙ্কট মোকাবেলায় সহায়তা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শিগগিরই সহায়তাকারী দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্কিন হতাহতের চিত্র : মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ২০০ জন। আহতদের অনেকেরই মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত এবং বিস্ফোরণজনিত ক্ষত তৈরি হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলার কারণেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় মার্কিন বাহিনীর জন্য তা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সঙ্ঘাত এখন কেবল ইরান বা ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতার চাপ : উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালী সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নৌপথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।
দুর্ভিক্ষের সতর্কতা ডব্লিউএফপি : বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে যে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আগামী জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও লজিস্টিক সঙ্কটে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী মারাত্মক অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা নিরসনে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মার্কিন কাউন্টার টেররিজম পরিচালকের পদত্যাগ : ইরান যুদ্ধের নীতি ও কৌশল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। কেন্টের মতে, বর্তমান যুদ্ধপন্থা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত ঘটাচ্ছে। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন শীর্ষস্থানীয় এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদত্যাগ মার্কিন নিরাপত্তা মহলে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



