আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছেন একদল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য। ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে মার্কিন সরকারের কয়েক দশকের রহস্যময় নীরবতা বা ‘অস্পষ্টতার নীতি’ ভাঙার জন্য তারা জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ৩০ জন আইনপ্রণেতা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সঙ্ঘাতের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক ভারসাম্যের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তারা দাবি করেন, বর্তমান সঙ্ঘাতের সময় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বা এ নিয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত তথ্য দেয়া হয়নি। আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছেন, ইসরাইলের কাছে বর্তমানে ঠিক কী পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো ছোড়ার উপযোগী সরঞ্জাম রয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রম এবং ইসরাইল বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করা হয়েছে।
এই দাবির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সঙ্ঘাতের সীমা নির্ধারণ। আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট শর্ত মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট করেছে কি না। একইসাথে বর্তমান বা অতীতে কোনো যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইল কখনো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছিল কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের দাবিও জানানো হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইল তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে কখনো সরাসরি স্বীকারোক্তি দেয়নি। ১৯৬০-এর দশক থেকেই তারা এই অস্পষ্টতার নীতি বজায় রেখে আসছে। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ারের মধ্যে এক গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ওয়াশিংটন এই কর্মসূচি নিয়ে চাপ না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা নথিতে বারবার ইসরাইলের বিশাল অস্ত্রাগারের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের তথ্যমতে, ইসরাইলের কাছে বর্তমানে অন্তত ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুদ এবং শক্তিশালী সাবমেরিন রয়েছে যা থেকে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব। তাদের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো তিন হাজার থেকে চার হাজার মাইল পর্যন্ত লক্ষ্যভেদে সক্ষম। মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই বিপুল ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রের অস্তিত্বকে আর আড়ালে রাখার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।



