নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন পর বেসরকারি স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ হয়েছে। এখন থেকে পদ খালি থাকা সাপেক্ষে নিজের জেলাতেই বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন তারা। তবে নিজের জেলায় নির্দিষ্ট পদ বা বিষয়ের কোনো আসন খালি না থাকলে সে ক্ষেত্রে নিজের বিভাগের যেকোনো জেলাতেও বদলির আবেদন করার সুযোগ পাবেন শিক্ষকরা। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির এই আবেদন জমা নেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। আবেদন যাচাই বাছাই করে বদলির আবেদন মঞ্জুর করা হবে। তবে একজন শিক্ষক তার চাকরিজীবনে মোট তিনবার বদলির আবেদন করতে পারবেন। গতকাল বুধাবর এ বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশি কিছু বিষয়ে আরো শর্ত জুড়ে দিয়ে গতকাল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। বদলিকৃত শিক্ষক ইনডেক্স আগের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে। সরকার জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি করতে পারবে। নীতিমালায় প্রযোজ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
এ দিকে বদলির সাধারণ শর্তাবলীতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা, বিবরণ সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত শূন্যপদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর শিক্ষকদের আবেদন আহ্বান করবে। সমস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, একই বিষয়ের শিক্ষক সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লেখকৃত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবে। এ ছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী, স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী, স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) বদলির আবেদন করতে পারবে। প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। একটি শূন্য পদে একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে, নিম্নেবর্ণিত অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে। নারী, দূরত্ব, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল জেলা (সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) এবং জ্যেষ্ঠতা। চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গণনা করা হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সব আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাক্সিক্ষত উপজেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাক্সিক্ষত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের নিজ নিজ জেলার কেন্দ্র হতে কাক্সিক্ষত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে। দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সংবলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দিয়েছে প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে [নারী ও জ্যেষ্ঠতা] বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) আবেদনকারী শিক্ষক বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ ৩টি কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। সরকার জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি করতে পারবে। বদলির কর্তৃপক্ষ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি হবে। আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সফটওয়্যার তৈরি ও অনলাইন আবেদনের ফরম্যাট নির্ধারণ করবে। বদলিকৃত শিক্ষক ইনডেক্স আগের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে। পারস্পারিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বদলি, পদায়নের বিষয়টি নিষ্পন্ন করতে পারবেন। বদলিকৃত শিক্ষক এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসাবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ প্রাপ্য পাবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষক অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান যোগদানের তথ্য চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালকে অনলাইনে অবহিত করবেন। অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত দিবসগুলো কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। কোনো শিক্ষকের বিষয়ে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না। একই সাথে এ নীতিমালা জারি হওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এ সংক্রান্ত বিষয়ে ইতঃপূর্বে জারিকৃত নীতিমালা, পরিপত্র রহিত করা হলো। তবে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে এ নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও এ নীতিমালার বিষয়ে ব্যাখা দিতে পারবে।



