‘চার পাঁচ সেশন ব্যাটিং করার ইচ্ছে ছিল’

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক লিটল মাস্টার মুমিনুল হক এই প্রথম নার্ভাস নাইন্টিতে ভুগে হলেন শতক-বঞ্চিত। মিরপুর টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর পর মুমিনুলের সেঞ্চুরি যখন অবধারিত মনে হচ্ছিল, সেই সময় নোমান আলির বলে একটি ভুল শট খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন সাবেক এই অধিনায়ক। কাটা পড়লেন ৯১ রানে।

১৩ সেঞ্চুরির মালিক গত চার ইনিংসে এ নিয়ে তৃতীয়বার আশির ওপর স্কোরে আউট হলেন। মুমিনুলের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে বললে ভুল হবে। টেস্টের মতোই খেলছিলেন তিনি। ওই যে কপাল মন্দের জন্য একটি বলই যথেষ্ট। সেটিই হলো মুমিনুলের কাল। ১০২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৬টি চারের মারে। ৯১ রানে আউট হলেন কাটায় কাটায় ২০০ বল খেলে। যেখানে ছিল আরো ৪টি চারের মার। অর্থাৎ ফিফটির পর ৪১ রান করতে তিনি খেলেছেন ৯৮ বল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টেস্ট মেজাজে খেলা মুমিনুল সেঞ্চুরি-বঞ্চিত হয়ে একটু আফসোস করতেই পারেন।

৭৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এর আগে নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে কখনো আউট হননি মুমিনুল। গতকালেরটিসহ ২৬ ফিফটি প্লাস ইনিংসের মধ্যে ৮০-এর ঘরে আউট হলেন মুমিনুল সপ্তমবার। এ ছাড়া একবার ৮৭ রানে গিয়ে অপরাজিত ছিলেন। তার মানে ওই ইনিংসগুলো তিন অংকে নিতে পারলে মুমিনুলের সেঞ্চুরি হতো ২১টি। প্রথম দিনে ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০১ রান।

সংবাদ সম্মেলনে সবার প্রত্যাশা নাজমুল হোসেন শান্ত হলেও এলেন মুমিনুল হক। শুরুতেই নিজের আউট হওয়া নিয়ে জানালেন, ‘ইচ্ছে ছিল চার পাঁচ সেশন টিকে থাকা। কিন্তু হলো না। বরাবরই কোনো টার্গেট নিয়ে মাঠে নামি না। আমি বল বাই বল চিন্তা করে খেলি। বেশি সেশন খেলতে পারলে আটোমেটিক রান হবে। আগে থেকে কোনো টার্গেট থাকে না। সেঞ্চুরি সবাই চায়। আমিও চাই। কিন্তু হয়নি, সেটি নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না।’

দলের টার্গেট নিয়ে বলেন, ‘টেস্টে টিকে থাকাটা বড় কথা। আগামীকাল (আজ) প্রথম সেশনটা জরুরি। উইকেট না হারিয়ে টিকে থাকতে পারলে অটো চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ হয়ে যাবে। ভালো টার্গেটই হয়ে যাবে। উইকেটটা স্পোর্টিং। বোলারদের জন্য যেমন সহায়ক তেমনি ব্যাটারদের জন্যও। বলের অসমান্তরাল হচ্ছে না, অর্থাৎ কখনো নিচু কখনো উঁচুতে আসছে।’

মুমিনুল যখনই কোনো সমস্যায় পড়েন কিংবা অস্বস্থিতে ভুগেন তখনই সাবেক কোচ হাথুরুসিংহের শরণাপন্ন হন। অস্বীকার করলেন না তিনি। সরাসরিই বলেন, ‘হ্যাঁ, ঠিক। হাথুরুর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আমার যখনি কোনো সমস্যা হয়, উনার সাথে যোগাযোগ করি, ডিসকাস করি, সমাধানের পথ খুঁজি। উনিও বাতলে দেন, আমিও যথাসাধ্য চেষ্টা করি।’

মুশফিককে নিয়ে মুমিনুল বলেন, তার মতো একজন ক্রিকেটার দলে আছেন, সেটিই মোটিভেটের জায়গা। তিনি রান করুক আর নাই করুক- তাকে দলে পাওয়া মানে এগিয়ে থাকা এবং দলের আত্মবিশ^াস চাঙা থাকা।

টস নিয়ে বলেন, আমরা টস জিতলে ব্যাটিংয়ই নিতাম। এমন পরিকল্পনা ছিল।