ভারত সব দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা আবারো সক্রিয় করবে: বিক্রম মিশ্রি

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারত পর্যায়ক্রমে সব দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা আবারো সক্রিয় করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে সম্পৃক্ত হতে চায়। এমন একটি সম্পর্ক অনুসরণ করতে চায় যার সবকিছুর কেন্দ্রে জনগণকে রাখা হবে।

ভারত সফররত বাংলাদেশী গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদলকে দেয়া ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা একটি কঠিন সময় (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে) পার করেছি। এখন বাংলাদেশে জনগণের জোরালো সমর্থনপুষ্ট একটি শক্তিশালী সরকার দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের নতুন সরকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে তার কাজ পরিচালনায় সম্পূর্ণ সক্ষম।

মিশ্রি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব মাধ্যম আবারো সক্রিয় করার কাজে হাত দিয়েছি। দুই দেশের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। পানিসম্পদ, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা বা ম্যাকানিজম রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল, যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) বি. শ্যাম, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিকাব) সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েশসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ভিসা, জ্বালানি, সংযোগ, প্রকল্প, পানি বণ্টন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ এবং সার্ক ও বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জানতে চেয়েছেন।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সাথে একটি গঠনমূলক, ইতিবাচক, বাস্তবসম্মত এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্কের প্রত্যাশা করি। অর্থপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সৃষ্ট তিক্ত সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে আবারো সম্পৃক্ত হতে বাংলাদেশ ও ভারত আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।