হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত লেবাননের

Printed Edition

আনাদোলু

লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য অস্ত্রসংবরণের জন্য তিনটি মূল শর্ত নির্ধারণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। যার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরকালে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট আউন এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে হলে সমস্যার মূলে যেতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান, লেবানন সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রের একক পরিচালনায় পুনর্গঠন কর্মসূচি বাস্তবায়ন।

তিনি উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহ কোনো বিদেশী ভাড়াটে বাহিনী নয়, তারা লেবাননেরই নাগরিক। বিগত চার দশক ধরে আদর্শিক, সামাজিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাই তাদের অস্ত্রসংবরণের জন্য সঠিক ও বাস্তবসম্মত পথ অনুসরণ করা জরুরি। কলম্বিয়ার ‘ফার্ক’ কিংবা উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘আইআরএ’-র মতো সঙ্ঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সমাধান একটাই- অস্ত্রসংবরণ, নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। প্রেসিডেন্টের মতে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে, যা হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র অবস্থানের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। এরপর দেশের একমাত্র বৈধ রক্ষক হিসেবে লেবানন সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিতে হবে। শেষ ধাপে রাষ্ট্রের অধীনে অর্থনৈতিক সুযোগ ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তরুণদের সামনে অস্ত্র ধারণ ছাড়া অন্য বিকল্প তৈরি হয়।