আবুল কাশেম শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
বাংলাদেশের গবাদিপশুর অন্যতম বড় অঞ্চল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য প্রায় সোয়া লাখের বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা এসব পশু বিক্রির জন্য এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গো-খামারিরা। তবে স্থানীয় হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় কেনাবেচা এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি।
সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে শাহজাদপুর এবারো কোরবানির পশু লালন-পালনে শীর্ষে রয়েছে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার গো-খামার রয়েছে। বেশির ভাগ খামারে পাঁচটি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০টি পর্যন্ত ষাঁড়, বলদ ও বন্ধা গাভী কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে বাড়িতে দু-তিনটি করে গরু মোটাতাজা করেছেন। বাজারে এসব পশুর দাম হাঁকা হচ্ছে এক লাখ থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত।
পৌর এলাকার পুকুরপাড় গ্রামের খামারি মিঠু ও দরগারচরের রকিবুল জানান, তারা প্রত্যেকেই বিক্রির জন্য বেশ কিছু গরু প্রস্তুত করেছেন। তবে স্থানীয় বাজারের মন্দা ভাব কাটবে বলে তারা আশা করছেন। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: জাহিদ আল হাসান বলেন, এবার উপজেলায় ১০ হাজার খামারি প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন। এই সংখ্যা স্থানীয় চাহিদার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি। আশা করছি, ঈদের আগেই সব পশু বিক্রি হয়ে যাবে।
এদিকে চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের কোরবানির পশু পরিবহনের সময় সড়ক ও নৌপথে যেন চাঁদাবাজি না হয়, সে জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবক মুন্সি আবুল কালাম আজাদ। এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, পথিমধ্যে কোনো চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার হলে ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। শাহজাদপুর ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে।



