অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
ঈদুল আজহার ছুটি যত এগিয়ে আসছে দেশের পুঁজিবাজারগুলোতে বিক্রয়চাপ ততই কমে আসছে। এর ফলে বাজারগুলোতে সূচকের কমবেশি উন্নতি ঘটছে। আগের দিনের মতো গতকালও দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের উন্নতি ঘটেছে। গত সপ্তাহের প্রায় পুরোটা ব্যাপক বিক্রয়চাপের মধ্য দিয়ে পার করা বাজারে চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ছিল বিক্রয়চাপের তীব্রতা। কিন্তু গত দুই দিন তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে এ নিয়ে টানা দুই দিন উন্নতি ঘটল পুঁজিবাজার সূচকের। বিক্রয়চাপ সামলে সূচকের এ উন্নতির ফলে গতকাল বৃদ্ধি পেয়েছে লেনদেনও।
সাধারণত দুই ঈদের ছুটির আগে পুঁজিবাজারে বিক্রয়চাপ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা ঈদের খরচ মেটাতে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে এ চাপ সৃষ্টি করেন। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুই ধরনের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেই তা দেখা যায়। কেউ ব্যক্তিগত খরচ আর কেউ প্রতিষ্ঠানের খরচ মেটাতেই এটা করে থাকেন। তবে বিক্রয়চাপ হ্রাস পেলে বরাবরই পুঁজিবাজারে আবার স্বাভাবিক আচরণে ফিরে আসে। কারণ শেষদিকে এসে শেয়ার বিক্রি করলেও টাকা উত্তোলন করা যায় না। ফলে এ সময় বিক্রয়চাপ পুনরায় হ্রাস পায়।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১০ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। ৫ হাজার ২১১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি বিকেলে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ২২২ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬১ ও ২ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। অনুরূপভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৪ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। তবে সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স দুটোরই পতন ঘটে।
সূচকের ইতিবাচক আচরণের কারণে গতকাল দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনের বড় ধরনের উন্নতি ঘটে। ডিএসইতে এদিন ৮৪১ কোটি টাকার লেনদেন হয় যা আগের দিনের চাইতে ১৬৬ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৬৭৫ কোটি টাকা। একইভাবে লেনদেনের উন্নতি ঘটেছে চট্টগ্রাম বাজারেও। সিএসইতে গতকাল ৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ২৭ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার সিএসইর লেনদেন ছিল ১৯ কোটি টাকা।
কয়েক দিন টানা পতনের পর গত দুই দিন পুঁজিবাজার সূচকের উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল মতিঝিলে ডিএসইর বিভিন্ন ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ট্রেডিং ফ্লোরে উপস্থিত বিনিয়োগকারীদের সাথে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে তারা তাদের এ মনোভাবের কথা জানান। দৈনিক নয়া দিগন্তকে তারা বলেন, ঈদের কারণে বাজারে যে বিক্রয়চাপ চাপ ছিল তা কিছুটা কেটে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলো বিশেষ করে ঈদের ছুটির পর বাজার আবার ভালো আচরণ করার মতো পরিবেশ এখন। বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হলে ঈদপরবর্তী পুঁজিবাজার ভালো যাবে।
এ দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে শরিয়াহ সূচক সমন্বয় করেছে। এতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিনটি কোম্পানি। একই সাথে বাদ পড়েছে আগের ১২টি কোম্পানি। বুধবার (২০ মে) সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিএসই থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ৩৮৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে সমন্বয়ের পর সিএসইর শরিয়াহ সূচকে মোট কোম্পানি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩টি। সমন্বয় পরবর্তীতে আগামী ৩ জুন থেকে শরিয়াহ সূচকটি কার্যকর হবে। শরিয়াহ সূচকে নতুন যুক্ত হওয়া কোম্পানি তিনটি হলো- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি পিএলসি ও সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।
অন্য দিকে বাদ পড়া কোম্পানিগুলো হলো, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস পিএলসি, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড, মালেক স্পিনিং পিএলসি, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি, নাভানা সিএনজি লিমিটেড, অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি এবং সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড।
গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি এনসিসি ব্যাংক। ৪২ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় এদিন। ২৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় ৮৯ লাখ ৬৪ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি আর ডি ফুড ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে টেকনোড্রাগস, মীর আকতার হোসাইন, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিডি থাই ফুডস।
গতকাল ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে মীর আখতার হোসাইন। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে আর ডি ফুডস, ইনফরমেশন সিস্টেমস নেটওয়ার্ক, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিড মিলস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনটেক অনলাইন।
ডিএসই দরপতনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফিন্যান্স। লভ্যাংশ ঘোষণার রেকর্ড পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৭ দশমিক ০২ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল হামি ইন্ডাস্ট্রিজ। ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে লিব্রা ইনফিউশন, মেঘনা সিমেন্ট, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স ট্যানারি, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিকস, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ও ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।



