শেষ দিনের নাটকীয়তায় সিলেট টেস্ট

বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেট

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার পরও ম্যাচের উত্তেজনা কমেনি! বরং শেষ দিনের জন্য জমে উঠেছে আরো বড় নাটক! বাংলাদেশ জয় থেকে মাত্র তিন উইকেট দূরে, অথচ পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমেও এখনো বেঁচে আছে অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন। উইকেটে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান- যিনি এই ম্যাচে সবচেয়ে ধৈর্যশীল ও অভিজ্ঞ ব্যাটার।

বাস্তবতার নিরিখে, বাংলাদেশই রয়েছে এগিয়ে। গতকাল চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩১৬ রান সংগ্রহ করায় জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। অন্য দিকে বাংলাদেশের দরকার লেজের দিকের তিনটি উইকেট। আজ পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। টেল অ্যান্ডারদের নিয়ে রিজওয়ান কতটুকু যেতে পারেন- সেটিই দেখার বিষয়।

৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকে চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথম সাফল্য এনে দেন গতি তারকা নাহিদ রানা। তার বলে গালিতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে আবদুল্লাহ ফজলকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর মিরাজের বলেই এলবিডব্লিউ হন আজান আওয়াইস। শুরুতে দুই উইকেট হারালেও বাবর আজম ও শান মাসুদ ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ তৈরি করে দেন।

তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। বাবর আজম আত্মবিশ্বাসী হলেও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে তার ইনিংস থামে ৪৭ রানে। তাইজুলের বল ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। লিটনের ক্যাচটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। বাবরের বিদায়ের পর পাকিস্তান দ্রুত আরো দু’টি উইকেট হারায়। সৌদ শাকিল মাত্র ছয় রান করে নাহিদ রানার বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ ৭১ রান করে তাইজুলের শিকার হন।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ২২৪ বলে ১৩৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন। একসময় মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলতে পারে। রিজওয়ান আছেন ধৈর্যশীল ও কৌশলী, অন্য দিকে সালমান ছিলেন আক্রমণাত্মক। তারা পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে।

বাংলাদেশের জন্য ফের স্বস্তির খবর আনেন তাইজুল। ১০২ বলে ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন। তার পরের ওভারেই হাসান আলীকে সিøপে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান এই বাঁ হাতি স্পিনার। মাত্র আট বলের ব্যবধানে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে আবার ম্যাচে এগিয়ে দেন তাইজুল।

এখনো অবশ্য হুমকি হয়ে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনি ১৩৪ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তার সাথে আছেন সাজিদ খান, যার সংগ্রহ আট রান। পাকিস্তানের আশা টিকিয়ে রেখেছেন মূলত রিজওয়ানই। তবে বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে, নতুন দিনের শুরুতে দ্রুত একটি উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে গতকাল সবচেয়ে সফল তাইজুল ইসলাম। তিনি ৩১ ওভারে ১১৩ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন। নাহিদ রানা পেয়েছেন দু’টি উইকেট এবং মিরাজ নিয়েছেন একটি। তরুণ নাহিদের গতি ও আগ্রাসন পাকিস্তানি ব্যাটারদের ভোগালেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ তাইজুলই বাংলাদেশের ভরসা হয়ে ওঠেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : সিলেট টেস্ট

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২৭৮ ও ৩৯০

পাকিস্তান ইনিংস : ২৩২ ও ৮৬ ওভারে ৩১৬/৭ (লক্ষ্য ৪৩৭, আগের দিন ০/০) (আজান ২১, ফাজাল ৬, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭, শাকিল ৬, সালমান ৭১, রিজওয়ান , সাজিদ, নাহিদ ২/৫৮, মিরাজ ১/৬২, তাইজুল ৪/১১৩)।

চতুর্থ দিন শেষে : বাংলাদেশ ১২১ রানে এগিয়ে।