নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীতে এক কৃষি কর্মকর্তাসহ তিন জেলায় চারজন নিহত ও কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন।
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: আব্দুর রহমান ওরফে সুমন (৩৮) নামে এক কৃষি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার চৌমুহনী-ছমিরমুন্সিরহাট সড়কের রোহিতার পোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের আব্দুর রশীদ খানের ছেলে। তিনি বেগমগঞ্জ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, সকালে সুমন বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা দেন। যাত্রাপথে তার মোটরসাইকেলটি উপজেলার চৌমুহনী-ছমিরমুন্সিরহাট সড়কের রোহিতার পোল পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে পুলিশে খবর দেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানায়, দিনাজপুরে চিরিরবন্দরে গতকাল ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক মাদরাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আব্দুলপুর ইউনিয়নে বানিয়াকুড়া-বেলতলী আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলতলী বাজারের মাইক ব্যবসায়ী মহসিন আলী বুলুর ছেলে, আব্দুলপুর বানষিগী মাদরাসার হাফেজ শাখার ছাত্র মো: তাছলিম উদ্দিন (১২) ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই শিশুর মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
থানার ওসি জানান, চালক পালিয়ে গেলেও ঘাতক ট্রাকটি আটক আছে। লাশের সুরতহাল করে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটা অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিয়ে শেষে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় বর কনেসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়। শনিবার ভোর ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ - টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের ৭ মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম ও মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (১৮)। রিয়াদ এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সাথে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ে শেষে বরযাত্রী কনেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফিরছিল। মাইক্রোবাসে ১৪ জন ছিল। রাত ৩টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময়ে মাইক্রোবাসে থাকা বর কনেসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।



