ডিআরইউর মৃত সদস্য পরিবারকে বীমার চেক দিয়েছে ন্যাশনাল লাইফ

গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার ঘোষণা তথ্যমন্ত্রীর

Printed Edition
ডিআরইউর মৃত সদস্যদের পরিবারের হাতে বীমার দাবির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন :  নয়া দিগন্ত
ডিআরইউর মৃত সদস্যদের পরিবারের হাতে বীমার দাবির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার কথা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে সরকার একটি আধুনিক গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই কমিশন এমন নীতিমালা তৈরি করবে, যেখানে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না এবং সাংবাদিকরাও তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় সংগঠনের প্রয়াত দুই সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের হাতে গ্রুপ বীমার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালানায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, এমডি অ্যান্ড সিইও মো: কাজিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দফতর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য সুমন চৌধুরী প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আধুনিক গণমাধ্যম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমন্বিত এক জগতে পরিণত হয়েছে, যেখানে তথ্য ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা যায়। প্রকৃত সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বীমা সুবিধার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিং : এদিকে গতকাল তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিক, মালিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী সব পক্ষের স্বার্থ নিশ্চিত করতে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে একটি যুগোপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে। এ ছাড়া, বিভিন্ন সময়ে অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিচার করার কাজ করবে এই কমিশন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদপত্রের ওয়েজবোর্ড এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সঠিক সময়ে বেতন না দেয়া বা অপেশাদার আচরণ থেকে তাদেরকে রক্ষা করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়াটাও আমাদের কাজ। সাংবাদিক ও মালিকপক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সুনির্দিষ্ট ও গোছানো আইনি কাঠামো তৈরি করতে আমরা কাজ করছি।