সিনিয়ররাই কি গড়ে দিচ্ছেন ম্যাচের ভাগ্য

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিলেট টেস্টে অভিজ্ঞ সিনিয়র ক্রিকেটাররাই যেন গড়ে দিচ্ছেন ম্যাচের ভাগ্য। তরুণদের উচ্ছ্বাস থাকলেও চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার মূল্য কতটা বড়, সেটিই আবারো প্রমাণ হচ্ছে এই টেস্টে। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস, কঠিন সময়ে ধৈর্য আর বল হাতে সঠিক পরিকল্পনা- সব কিছুতেই সিনিয়রদের উপস্থিতি আলাদা করে চোখে পড়ছে।

বাংলাদেশের হয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটাররা ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। শুরুতে দ্রুত উইকেট পড়লেও তারাই ধৈর্যের সাথে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন দলকে। একইভাবে বোলারদের মধ্যেও অভিজ্ঞদের লাইন-লেংথ ও ম্যাচ রিডিং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে। তরুণরা আগ্রাসন দেখালেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিনিয়রদের সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

টেস্ট ক্রিকেট মূলত ধৈর্য, পরিকল্পনা ও মানসিক দৃঢ়তার খেলা। সিলেটের উইকেটেও সেটাই পরিষ্কার। অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা জানেন কখন আক্রমণ করতে হয়, আবার কখন সময় নিয়ে ম্যাচকে নিজেদের দিকে টেনে আনতে হয়। তাই এই টেস্টে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে অভিজ্ঞতার প্রভাব। শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় যাই হোক, সিলেট টেস্ট যেন আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছে- টেস্ট ক্রিকেটে সিনিয়রদের মূল্য কখনোই ফুরিয়ে যায় না।

এই টেস্ট শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়, মানসিক যুদ্ধেও পরিণত হয়েছে। মাঠে স্লেজিং, কথার লড়াই, সময় নষ্টের নানা কৌশল- সব মিলিয়ে ম্যাচে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সময়ক্ষেপণের কৌশল চোখে পড়েছে বারবার। কখনো চোটের অভিনয়, কখনো অযথা খেলা থামিয়ে রাখার চেষ্টায় পাকিস্তান সময় পার করার পথও খুঁজেছে। কারণ জয়ের পাশাপাশি ড্র করার সম্ভাবনাও তাদের মাথায় ছিল।

ম্যাচের শুরু থেকে দুই দলই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ লিটন দাসের ১২৬ রানের ইনিংসে ভর করে ২৭৮ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ২৩২ রানে অলআউট হয়। ফলে বাংলাদেশ পায় ৪৬ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের ১৩৭ রানের অসাধারণ ইনিংস, মাহমুদুল হাসান জয়ের ফিফটি এবং লিটনের কার্যকর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ৩৯০ রান সংগ্রহ করে। সেই সুবাদে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য।

এখন সব কিছু নির্ভর করছে পঞ্চম দিনের ওপর। বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত শেষ তিন উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করতে। আর পাকিস্তান চাইবে রিজওয়ানের ব্যাটে ভর করে অসম্ভবকে সম্ভব করতে।

প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন লিটন দাসের সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে লড়াইয়ে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে সেই গল্পকে পূর্ণতা দেন সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহীম। তবে এই দুই ইনিংসের ভেতরে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আছেন- তাইজুল ইসলাম! স্কোর বোর্ডে হয়তো তার নাম সবচেয়ে উজ্জ্বল নয়, অথচ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তিনি হয়ে উঠেছেন নীরব সঙ্গী। প্রথম ইনিংসে লিটনের সাথে, দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের পাশে দাঁড়িয়ে গড়েছেন মূল্যবান জুটি। যখন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ, তখন ব্যাট হাতে ঠাণ্ডা মাথায় দায়িত্ব পালন করেছেন এই বাঁ হাতি স্পিনার।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে যান তাইজুল। তখনো ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের মুঠোয় চলে যায়নি। কিন্তু মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটাকে পাকিস্তানের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন তিনি। ৫১ বলে ২২ রান-সংখ্যাটা খুব বড় নয়, কিন্তু ইনিংসের প্রেক্ষাপটে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর দ্বিতীয় ইনিংসে যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল পাকিস্তান। সে মুহূর্তেও ৪ উইকেট নিয়ে আলোচনায়। লিটন-মুশফিক-তাইজুল ত্রয়ী মনে করিয়ে দিলেন সিনিয়রদের প্রভাব কতটুকু।