হাবিবুল বাশার
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের বাইরে গেট এবং দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে ময়লার স্তূপ হাসপাতাল যেখানে সর্বোচ্চ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার কথা; কিন্তু তার দেয়াল আর গেটে দেখা যায় অপরিচ্ছন্ন যা রোগ-ব্যাধির কারখানা। হকারদের বেচাকেনা করে ময়লা-আবর্জনা ফেলে যাওয়া থেকে তৈরি হয়েছে বলে এ আবর্জনার স্তূপ মর্মে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ রোগীরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন অনেকে। সেখানকার এলাকার হাসপাতালের ফুটপাথে ব্যবসা করেই তারা তাদের জীবন নির্বাহ করে। হকারি না করতে পারলে তাদের জীবন চলবে না। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি হকারদের।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাসপাতালের বাইরের পরিবেশ অনেকটা পরিচ্ছন্ন থাকে। ফুটপাথগুলো প্রশস্ত, মসৃণ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হয় । হাসপাতালের সামনে কোনো হকার বা অবৈধ পার্কিং থাকে না, যা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের পথ সুগম রাখে। তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার হাসপাতালের বাইরে সুন্দর বাগান, বসার জায়গা এবং আধুনিক ফুটপাথ থাকে। পথচারীদের হাঁটার জন্য সুনির্দিষ্ট লেন এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকে। থাইল্যান্ডের অনেক সরকারি হাসপাতাল ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ মডেল অনুসরণ করে, যার ফলে বাইরের চত্বর গাছপালা দিয়ে ঘেরা এবং দূষণমুক্ত থাকে।
কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। মিটফোর্ড হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, অনেক সময় রোগীর থেকে হকারদের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরে একই অবস্থা। হাসপাতালের বাইরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, ফুটপাথে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি। কিছু কিছু ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অস্থায়ী থেকে স্থায়ী স্তূপে পরিণত হয়েছে। টহলরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ হকারদেরকে উঠিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু কিছু সময় যাওয়ার পরে আবার বসে। রাজধানীর ওই হাসপাতালে দেখা যায় করুণ চিত্র। প্রায় প্রতিটি গেটের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের দেখা মিলবে। রোগীরা চলাচল করে পকেট গেট দিয়ে।
হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা ছকিনা বেগম বলেন, হাসপাতালের মসজিদের পাশের গেট থেকে বাবুবাজার ব্রিজের সিঁড়ি যেতে শারীরিক অস্থিরতা অনুভব করি। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এবং যানজটের কারণে যাতায়াত কষ্টকর। সুস্থ হতে হাসপাতালে এসে আবার অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, চকবাজার এলাকা অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। হাসপাতালে সামনের এই রাস্তায় যানজটের অন্যতম কারণ হকার বা ভাসমান ব্যবসায়ীরা। হাসপাতাল আর পাইকারি বাজার হওয়ার কারণে হাজার হাজার মানুষ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক সময় পর্যন্ত জ্যাম থাকে।
কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, কয়েকবার অভিযানের করার পরেও হকাররা আবার বসে। দিনে দুই-তিনবার তাদের উঠিয়ে দেয়ার পরও তারা স্থান ছেড়ে যেতে নারাজ। মাঝে মধ্যে হকারদের সাথে বাগি¦তণ্ডায় জড়াতে হয়।



