গাজায় চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনির লাশ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গাজার বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির লাশ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। উদ্ধারকাজের ধীরগতি এবং দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এই লাশগুলো হয়তো আর কখনোই শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক খবরে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জেরুসালেমে আইসিআরসির মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, কোনো সন্দেহ নেই যে এই লাশগুলো শিগগিরই শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ধ্বংসস্তূপের নিচে লাশ যত বেশি সময় থাকবে, তা তত দ্রুত পচনের শেষ স্তরে পৌঁছাবে, এমনকি তা কেবল কঙ্কালে পরিণত হতে পারে। ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরিচয় নিশ্চিত করার মতো পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি হারাবেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজার আনুমানিক ছয় কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই ধ্বংসস্তূপের নিচে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের লাশ চাপা পড়ে আছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ধারকারী দলগুলো বেলচা, কোদাল, হাতগাড়ি এবং খালি হাতেই এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বুলডোজার ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য ইসরাইলের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, লাশ উদ্ধারের যন্ত্রপাতি গাজায় আনার কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি।

গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলা

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার পৃথক হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আলজাজিরা। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরের আল-আমাল এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামলায় আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি ইসরাইলি ড্রোন হামলায় পৌরসভার কর্মী মুয়াবিয়া আল-আইদি নিহত হন এবং আরও দুইজন আহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৯৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিন হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজারে পৌঁছেছে।