নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মালামাল রাখার স্থানে ফের আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব ফায়ার ইউনিট ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে এই আগুনের সূচনা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মো: মাহমুদুল হাসান জানান, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে তাদের সাথে আরো দু’টি ইউনিট যোগ দেয়। রাত ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কুরিয়ারের এক কনটেইনারে আগুন লাগে। তবে কী কারণে আগুন লেগেছিল তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এই বিষয়ে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তসাপেক্ষে বোঝা যাবে কী থেকে আগুনটা ধরেছে। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটা কমিটি করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের বিষয়ে কমিটি বলতে পারবে। প্রাথমিকভাবে এখানকার লোকজনের সাথে কথা বলে বোঝা গেছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো শর্ট সার্কিট হবে কেন? এর আগেও যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, সেখানেও তদন্ত রিপোর্টে শর্ট সার্কিট ছিল। তাহলে নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে। আমাদের তা স্বীকার করতে হবে। কমিটিকে প্রাথমিক তদন্ত দিতে বলা হয়েছে। এবার কারো গাফিলতির কারণে হয়ে থাকলে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিকে আগুনের ঘটনা ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তার তদন্তে এরই মধ্যে নানা ধরনের ‘অসঙ্গতি’ পেয়েছেন। এই অসঙ্গতির বিষয়ে গতকাল সকাল থেকেই কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের পাঁচ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তা ছাড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো কার্গোর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কেন বারবার এমনটা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, যেখানে হাজারো কোটি টাকার আমদানি পণ্য রয়েছে। তার নিরাপত্তায় এত কর্মী কিন্তু বারবার এ ধরনের ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও আমাদের এ নিরাপত্তা সঙ্কটটি তীব্র হচ্ছে।
সিটিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বলছেন, রাত তখন সাড়ে ১১টার কাছাকাছি। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থানে ডিএইচএলের এক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন, তিনি মশারি টাঙিয়ে সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আগুন লাগার দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি খুবই শান্তভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখছিলেন। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তিনি বিষয়টি সবাইকে জানানোর জন্য ফোন করেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেদিন আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি যোগ দেয় সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও। ভয়াবহ ওই আগুনে শত শত কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ভস্মীভূত হয়।



