শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতে ক্ষমতা চান রাজনীতিবিদরা

দেড় বছরের সংস্কার পরিকল্পনার ইতি ঘটছে?

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

কমিটি গঠনেও একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই টার্গেট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রণে আবারো পূর্ণ ক্ষমতা নিতে চান রাজনীতিবিদরা। শিক্ষক নিয়োগ, কমিটি গঠন এবং এনটিআরসিএ’র ক্ষমতাকেও খর্ব করতে মরিয়া তারা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে পলায়নের পর গত দেড় বছরের বেশি সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংস্কার পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয় প্রফেসর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচনে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান চূড়ান্ত করা হয়।

একই সাথে শিক্ষক নিয়োগে কমিটির একক নিয়ন্ত্রণও খর্ব করা হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ) ও সহকারী প্রধান শিক্ষক/ উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির পরিবর্তে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ-এর উপরেই দায়িত্ব দেয়া হয়। এসব বিষয় সর্বমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও প্রশংসিত হলেও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই সব উদ্যোগই এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার পরেই আগের সব বিষয়গুলো বাতিল করে নতুন করে রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা পুনর্বহাল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিতে আনতে চাইছে সংশ্লিষ্টরা।

নতুন সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই শিক্ষা সেক্টরের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন অংশীজনের সাথেও তারা বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে সমস্যার স্বরূপ উন্মোচনের চেষ্টা করছেন। গতকাল রোববার শিক্ষক নেতা ও কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। সভা সূত্র জানায়, সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আগের মতো রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা হয়। সেখানে স্কুল বা কলেজের কমিটি গঠনে রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা দেয়ার বিষয়ে দাবিও জানানো হয়। একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতেও দাবি উঠে আসে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া জানান, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরো অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সেগুলো এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এর পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ আগের মতো রাখার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাজনৈতিক নেতাদের বহাল রাখতে হবে। একজন এমপি যেন অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকতে পারেন। ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবিও জানান শিক্ষক নেতারা।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের দাবি-দাওদায়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যদিও বাজেটসংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা ও সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে।