রফিকুল হায়দার ফরহাদ
এখন পর্যন্ত নিজস্ব কোনো ভেনু নেই বাংলাদেশ রেসলিং ফেডারেশনের। বিশ্বের সবচেয়ে পুরাতন খেলা এই কুস্তি। বাংলাদেশও সাফ গেমসের শুরু থেকেই পদক জিতে আসছেন কুস্তিগীররা। তবে আটকা সর্বোচ্চ রৌপ্য পর্যন্তই। এখন পর্যন্ত কোনো স্বর্ণ জিততে পারেনি। সাফ গেমস বা এসএ গেমসের বাইরে অন্য কোনো বড় গেমসের বলার মতো পদক নেই বাংলাদেশী কুস্তগীরদের। বাকু ইসলামী সলিডারিটি গেমসে একটি ব্রোঞ্জ। তা-ও সেটা বাই পাওয়ার কল্যাণে পেয়েছিলেন শিরিন আক্তার। এসএ গেমসে স্বর্ণ নেই বলে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ভেনু পায়নি ফেডারেশন। ফলে একেক সময় একেক স্থান অনুশীলন পর্ব। বেশ কয়েক বছর ধরেই কুস্তি ফেডারেশনের পছন্দের তালিকায় ছিল উডেন ফ্লোর জিমন্যাসিয়ামের পাশের খোলা জায়গা। বিগত সরকারগুলোর কাছে আবেদনও করেছিল। তবে হয়নি। সেটিও এখন বাংলাদেশ সেপাকটাকরো অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের নামে বরাদ্ধ নিয়ে নিয়েছে। ফলে ভাসমানই থেকে গেল কুস্তি। তাই এখন বড় একটি পদকের অপেক্ষায় বাংলাদেশের কুস্তিগীররা। যাতে নিজস্ব ভেনু পাওয়ার দাবিটা জোরালো করতে পারবে ফেডারেশন। এই মিশনে ২২ এপ্রিল থেকে চীনের সানিয়া শহরে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান বিচ গেমসই প্রথম টার্গেট।
বিচ গেমস কুস্তিতে বাংলাদেশের দুইজন কুস্তিগীর অংশ নেবেন। একজন অভিজ্ঞ আলী আমজাদ। অপর জন জুয়েল হোসেন। এবারই প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জের জুয়েল। তিনি খেলবেন-৭০ কেজিতে। আর আমজাদ লড়বেন-৮০ কেজিতে। চার কুস্তিগীর থেকে বাছাই করা হয়েছে এই দুইজনকে। কোচ দিপু চন্দ্র আশাবাদী এদেরকে ঘিরে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে। পল্টন ময়দানের বালুর মাঠে চলছে কুস্তিগীরদের অনুশীলন।
আমজাদ গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমস, জাকার্তা এশিয়ান গেমস, ইসলামী সলিডারিটি গেমসে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া এশিয়ান কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান ক্লাব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপসহ আরো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়েছেন। রয়েছে এশিয়ান কুস্তিতে তার একটি রৌপ্য পদক। তাই তার অভিজ্ঞতাই এই মুহূর্তে বড় ভরসা। তবে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে হলে চারটি ম্যাচ জিততে হবে। এরপর সেমিতে উঠলেই পদক নিশ্চিত। অবশ্য সেমিতে যাওয়াটা এতো সহজ নয়। আমজাদের মতে, ‘কুস্তি হলো এমন একটি খেলা যেখানে সব দেশই অংশ নেয়। অন্য ডিসিপ্লিনে দেখা যায় পাঁচ-ছয় দেশের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি। তাই কুস্তিতে পদক জিততে সেমিতে উঠাটা বেশ কঠিন। এর পরও আমাদের জোর চেষ্টা থাকবে ভালো করার।’ কোচ দিপু চন্দ্রের মতে, আমি এই দুই কুস্তিগীরকে ঘিরে আশা দেখছি। তারা বেশ ভালো করছে অনুশীলনে।’ অবশ্য কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের অনুশীলন করালেও দলের সাথে চীন যাওয়া হচ্ছে না দিপুর। সেখানে একমাত্র কর্মকর্তা হিসেবে চীন যাবেন ফেডারেশনের যুগ্মসম্পাদক এ কে এম আবদুল মোবিন ওরফে টাইগার। তিনি অনুশীলনে এসে বসেই থাকেন।
এশিয়ান বিচ গেমস একই সাথে বাংলাদেশের কুস্তিগীরদের জন্য জুলাইতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের বাছাই পর্বও। চীনে পদক জিততে পারলে কমনওয়েলথ গেমসে খেলার সুযোগ মিলবে। জানান আমজাদ। তাই চীন থেকে দেশকে একটি পদক এনে দেয়া এবং কমনওয়েলথ গেমসে খেলার ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য সিরিয়াস কুস্তিগীররা।



